মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজারে ভারতীয় সংস্থার প্রবেশ! হতে পারে ভারত-মার্কিন যুগান্তকারী চুক্তি

indo-usa pact

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে এগোচ্ছে এক ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকে – Reciprocal Defence Procurement Agreement (RDPA) অর্থাৎ এমন একটি চুক্তি, যেখানে দুই দেশ একে অপরের প্রতিরক্ষা বাজারে কেনাবেচার সমান সুযোগ ও সুবিধা প্রদান করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে চলেছে, আর ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য খুলে যাচ্ছে বিশ্ববাজারের সবচেয়ে বড় দরজা।

৮৫০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজারে ভারতীয় সংস্থার প্রবেশাধিকার

এই RDPA-র মাধ্যমে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলি প্রবেশ করতে পারবে ৮৫০ বিলিয়ন ডলার দামের মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজারে। এই বাজারের পরিমাণ মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স-এর ২০২৫ সালের বাজেটই প্রায় $849.8 বিলিয়ন। এর ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলি আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নাম লেখাতে পারবে।

ভারত যদি এই চুক্তি স্বাক্ষর করে, তাহলে জাপান-এর পর এশিয়ার দ্বিতীয় দেশ হিসেবে RDPA-র অংশ হবে এবং ২৯তম সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে যুক্ত হবে। এই চুক্তির ফলে নেটো, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা-র মতো শক্তিধর দেশের সাথে এক সারিতে উঠে আসবে ভারত।

‘Make in India’-র সাফল্য ও রপ্তানির জোয়ার

গত এক দশকে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে এসেছে বিপুল পরিবর্তন। ২০১৩-১৪ সালে ₹৬৮৬ কোটি রপ্তানি হলেও, ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ₹২৩,৬২২ কোটি ($২.৮ বিলিয়ন)। এই বিস্ময়কর ৩৪ গুণ বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে ‘Make in India’ উদ্যোগ।

ভারতের মোট প্রতিরক্ষা উৎপাদন এখন ১.২৭ লক্ষ কোটি (২০২৩-২৪), যা ২০১৪-১৫ সালের তুলনায় ১৭৪% বৃদ্ধি। সরকার লক্ষ্য নিয়েছে ২০২৯ সালের মধ্যে ₹৩ লক্ষ কোটি উৎপাদন ও ₹৫০,০০০ কোটি রপ্তানির।

ভারত এখন ৮০টিরও বেশি দেশে প্রতিরক্ষা সামগ্রী রপ্তানি করে – যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ও আর্মেনিয়া। এর মধ্যে প্রাইভেট সেক্টরের অবদান সবচেয়ে বেশি – ₹১৫,২৩৩ কোটি।

চুক্তির কাঠামো ও প্রয়োজনীয়তা

এই RDPA চুক্তি দাঁড়িয়ে আছে ২০২৪ সালের Security of Supply Arrangement (SOSA)-এর ভিত্তিতে, যা স্বাক্ষর করেন ডঃ ভিক রামদাস ও সমীর কুমার সিনহা। SOSA অনুযায়ী, উভয় দেশই প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দ্রুত যোগান দিতে বাধ্য।

এই কাঠামোতে US-এর Defence Priorities and Allocations System (DPAS) অনুসারে ভারতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, আর ভারতের সংস্থাগুলিও মার্কিন চাহিদা অনুযায়ী কাজ করতে সম্মত হবে।

বাণিজ্যিক সুযোগ ও আমেরিকান বাজারে প্রবেশ

RDPA স্বাক্ষরের পর ভারতীয় সংস্থাগুলি ‘Buy America’ আইন-এর বাধা ছাড়াই মার্কিন প্রতিরক্ষা টেন্ডারে অংশ নিতে পারবে। অর্থাৎ তারা মার্কিন সংস্থার মতোই সুযোগ পাবে। এতে আমদানির লাইসেন্সিং কমবে, অনুমোদনের দেরি কমবে, আর দীর্ঘমেয়াদি কনট্রাক্টে কাজ পাওয়া সহজ হবে।

বিশ্বের বড় বড় সংস্থার সঙ্গে কাজের সুযোগ তৈরি হবে – যেমন:

  • Lockheed Martin ($64.7B)
  • RTX ($40.6B)
  • Northrop Grumman ($35.2B)
  • General Dynamics ($33.7B)

প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ উৎপাদনের সুযোগ

এই চুক্তির মধ্যে থাকবে টেকনোলজি ট্রান্সফার ও কো-প্রোডাকশনের সুযোগ। উদাহরণস্বরূপ:

  • Javelin Anti-Tank Guided Missile-এর কো-প্রোডাকশন
  • Stryker Infantry Combat Vehicles তৈরি
  • Anduril IndustriesMahindra Group-এর মধ্যে স্বচালিত প্রযুক্তি নিয়ে চুক্তি
  • GE F414 ইঞ্জিন-এর Hindustan Aeronautics Limited-এর সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি – যা ব্যবহার হবে Tejas Mk2, Twin Engine Deck-Based Fighter, এবং Advanced Medium Combat Aircraft-এ।

চ্যালেঞ্জও আছে…

তবে চুক্তির বাস্তবায়ন সহজ নয়। ভারতের সংস্থাগুলিকে মানতে হবে কঠিন মার্কিন নিয়মাবলি, যেমন:

  • Defence Federal Acquisition Regulation Supplement (DFARS)
  • Cybersecurity Maturity Model Certification (CMMC)

এগুলি পূরণ করতে ছোট সংস্থার সমস্যাও হতে পারে।

এছাড়া বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব চুক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। যেমন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের রপ্তানিতে ২৫% শুল্ক বসানোর ঘোষণা করেছেন, যা প্রভাব ফেলতে পারে।

গ্লোবাল কনটেক্সট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এই RDPA-র আলোচনার সময়েই ইউরোপ ঘোষণা করেছে তাদের $850 বিলিয়নের “ReArm Europe” প্রকল্প – যেখানে ভারতীয় সংস্থার সুযোগ বাড়ছে। এর ফলে জেন টেকনোলজিস, ভারত ডায়নামিক্স, ডেটা প্যাটার্নস-এর শেয়ারও লাফ দিয়েছে।

Quad-এর (ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া) প্রতিরক্ষা জোট আরও শক্তিশালী হবে এই চুক্তির মাধ্যমে।

যদিও এখনই অফিসিয়াল ঘোষণা আসেনি, তবে আগামী এক বছরের মধ্যেই তা হতে পারে। ইতিমধ্যেই INDUS-X, iCET, ও ASIA-র মতো উদ্যোগে শক্ত ভিত তৈরি হয়েছে।

Reciprocal Defence Procurement Agreement (RDPA) ভারতের জন্য শুধু এক বিশাল মার্কেটের দরজা নয়, বরং একটি বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শক্তিতে রূপান্তরের পথ

এই মুহূর্তে

ইয়ান লেকান অ্যানথ্রোপিকের ৫০% চাকরি হারানোর পূর্বাভাস খারিজ করলেন মেটার প্রধান এআই বিজ্ঞানী

AI Chatbot আত্মহত্যা: চ্যাটবটের পরামর্শে ব্যক্তির মৃত্যু, উঠছে গুরুতর প্রশ্ন

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬: বাঁশের বেড়া থেকে এআই প্রযুক্তি, অভূতপূর্ব সুরক্ষা

Project বিষ্ণুর ET-LDHCM হাইপারসনিক মিসাইল: ভারত Mach 8 গতির পথে