মোদী – ট্রাম্প সংঘাতের মাঝেই আমেরিকার মাটিতে ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৫’ শুরু করল ভারতীয় সেনা

Yudh 2025

ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা যে ক্রমশ বাড়ছে, তার আরও একটি বড় প্রমাণ হল যুদ্ধ অভ্যাস’ নামের যৌথ সামরিক মহড়া। এই বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে, এই মহড়া ২১ তম বারের জন্য শুরু হয়েছে। ১ থেকে ১৪ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, আমেরিকার আলাস্কা রাজ্যের ফোর্ট ওয়াইনরাইট-এ এই বিশেষ প্রশিক্ষণ চলবে। আধুনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য দুই দেশের সেনারা নিজেদের মধ্যে জ্ঞান এবং দক্ষতা বিনিময় করবেন।

কারা অংশ নিচ্ছেন এই মহড়ায়?

এই মহড়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর হয়ে অংশ নিচ্ছে একদল সাহসী সৈনিক। তারা ভারতের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এবং অভিজ্ঞ রেজিমেন্ট, মাদ্রাজ রেজিমেন্ট-এর একটি ব্যাটালিয়ন থেকে এসেছেন। তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অনুশীলন করছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর ১১তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন-এর আর্টিক উলভস ব্রিগেড কমব্যাট টিম-এর অন্তর্গত ১ম ব্যাটালিয়ন, ৫ম ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট “ববকিটস-এর সেনারা।

কেন এই মহড়া এত গুরুত্বপূর্ণ?

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, এবারের মহড়াটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এতে শুধু সাধারণ কৌশলগত অনুশীলন নয়, বরং উচ্চ-উচ্চতায় যুদ্ধ, বহু-ডোমেইন অভিযান এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। দুই সপ্তাহের এই প্রশিক্ষণে সেনারা হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আক্রমণ, নজরদারি ড্রোন বা  UAS-এর ব্যবহার, পাহাড়ে ও পাথুরে জায়গায় যুদ্ধ কৌশল, এবং গুরুতর আহত সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়ার মতো জটিল বিষয়গুলো অনুশীলন করবেন। এর পাশাপাশি, কামান, বিমান এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তির ব্যবহারও শেখানো হচ্ছে, যা আধুনিক যুদ্ধের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

শুধু মাঠের মহড়াই নয়, দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। সেখানে তারা ড্রোন-বিরোধী অভিযান, সাইবার যুদ্ধ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং রসদ ব্যবস্থাপনার মতো কৌশলগত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছেন। এর মাধ্যমে কেবল শারীরিক প্রশিক্ষণের বাইরেও বুদ্ধি এবং কৌশলগত দিক থেকে নিজেদের সমৃদ্ধ করা হচ্ছে।

মহড়ার মূল লক্ষ্য কী?

এই মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানো এবং যেকোনো ধরনের যুদ্ধ বা মানবিক সংকট মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার ক্ষমতা তৈরি করা। ইউনাইটেড নেশনের শান্তিরক্ষা মিশনে একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতিও এই মহড়ার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। কঠিন ভূখণ্ড এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় কীভাবে একসঙ্গে কাজ করা যায়, তা নিয়ে সেনারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

টাইগার ট্রায়াম্ফ থেকে যুদ্ধ অভ্যাস: ভারত-মার্কিন সম্পর্কের গতি

এই মহড়াটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। এর ঠিক আগে এপ্রিল মাসের ২ থেকে ৪ তারিখ পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশের দুভাদা ফায়ারিং রেঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছিল আর একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ মহড়া, টাইগার ট্রায়াম্ফ ২০২৫। সেখানে ভারতের বাইসন ডিভিশন-এর অ্যাম্ফিবিয়াস ব্রিগেড-এর অন্তর্গত ৮ গোর্খা রাইফেলস ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন গ্রুপ এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর ১১তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন-এর ১ম স্ট্রাইকার ব্রিগেড কমব্যাট টিম-এর ১ম ব্যাটালিয়ন, ৫ম ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট অংশ নিয়েছিল।

টাইগার ট্রায়াম্ফ মহড়ায় মার্কিন নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল গ্রেগ নিউকির্ক, ভারতীয় ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের সিনিয়র অফিসার এবং ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এই মহড়ায় ছোট অস্ত্রের দক্ষতা, ক্লোজ-কোয়ার্টার যুদ্ধ এবং জঙ্গল যুদ্ধের মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। উভয় দেশের সেনারা বাডি টিম’ হিসেবে কাজ করে বিভিন্ন কঠিন অনুশীলন করেছিলেন।

টাইগার ট্রায়াম্ফ এবং যুদ্ধ অভ্যাস-এর মতো মহড়াগুলো ভারত-মার্কিন সামরিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সেনারা একে অপরের সামরিক কৌশল, প্রযুক্তি এবং সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন, যা তাদের মধ্যে গভীর বিশ্বাস ও সৌহার্দ্য তৈরি করছে।

এই মুহূর্তে

DRDO-র প্রতিরক্ষা উদ্ভাবনে ভারতের সামরিক বাহিনীতে আসছে যুগান্তকারী পরিবর্তন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: ভারতে অনলাইন ও টিভিতে লাইভ দেখবেন কোথায়? রইল সম্পূর্ণ গাইড

অডিওর পর এবার গ্রুমিং দুনিয়ায় Boat, এলো নতুন Slazer সিরিজ

এবার মানুষের চেয়েও বেশি ওয়েব ট্র্যাফিক তৈরি করছে AI এজেন্টরা!