বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ মানেই আর শুধু ট্যাঙ্ক বা জঙ্গি বিমান নয়, আধুনিক যুদ্ধের মোক্ষম অস্ত্র হয়ে উঠেছে ড্রোন। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আবহে আবারও সামনে এসেছে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা। একদিকে ইজরায়েলের হামলা, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা ১৫০টিরও বেশি ড্রোন অ্যাটাক, গোটা দুনিয়াকে চিন্তায় ফেলেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে উঠে এসেছে ভারতের হাতে থাকা ৫টি শক্তিশালী ড্রোনের কথা, যেগুলি যেকোনও শত্রু রাষ্ট্রকে মুহূর্তে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম।
১. HAROP Drone
Israel Aerospace Industries দ্বারা নির্মিত এই ড্রোন ভারতের ডিফেন্স ফোর্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এটি একপ্রকার ‘লোইটারিং মিউনিশন’ ড্রোন, যা শত্রুর রাডার সিগন্যাল শনাক্ত করে আত্মঘাতী হামলা চালাতে সক্ষম।
- পরিসীমা: ৫০০ কিমি
- উড়ান সময়: ৯ ঘন্টা
- লোড: ২৩ কেজি
- গতি: ৪০০ কিমি/ঘন্টা
২. Heron Mark 2
২০২৩ সালে ইজরায়েল থেকে কেনা এই ড্রোন নজরদারি ও আক্রমণ—দুটির কাজই সমান দক্ষতায় করতে পারে।
- পরিসীমা: ৩০০০ কিমি
- উড়ান সময়: ২৪ ঘন্টা
- গতি: ২৭৭ কিমি/ঘন্টা
- লোড: ৪৯০ কেজি
- সেন্সর: SAR রাডার, EO/IR ক্যামেরা, Laser Designator
৩. Kamikaze Drone
ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি আত্মঘাতী ড্রোন এটি। তৈরি করেছে National Aerospace Laboratories।
- দৈর্ঘ্য: ২.৮ মিটার
- ডানার বিস্তার: ৩.৫ মিটার
- গতি: ১৮০ কিমি/ঘন্টা
- পরিসীমা: ১০০০ কিমি
- লোড: ২৫ কেজি
- বিশেষত্ব: লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটায়
৪. Hermes 900
এই ড্রোন ভারতের নজরদারি ও স্ট্র্যাটেজিক অপারেশনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
- উড়ান সময়: ৩০+ ঘন্টা
- উচ্চতা: ৩০,০০০ ফুট
- কাজ: হাই রেজোলিউশন ইমেজিং, টার্গেট শনাক্তকরণ
৫. MQ-9 Reaper
General Atomics-এর তৈরি MQ-9 Reaper বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর ড্রোন।
- উচ্চতা: ৫০,০০০ ফুট
- পরিসীমা: ১৯০০ কিমি
- গতি: ৪৮২ কিমি/ঘন্টা
- লোড: ১৭০১ কেজি
- মোট ওজন: ২২২৩ কেজি
- কাজ: স্পাইং, সার্ভেইল্যান্স, টার্গেট অ্যাটাক
ভারতের ড্রোন শক্তি—শত্রুদের জন্য ‘সাইলেন্ট থ্রেট’
চিন ও পাকিস্তান ইতিমধ্যেই ভারতের এই আধুনিক ড্রোন ব্যবস্থাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। একাধিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতের ড্রোন ইউনিট শত্রুর UAV গুলি ধ্বংস করে দিয়েছে, নজরদারি চালিয়েছে সীমান্তে।
এই পাঁচটি ড্রোন ভারতের ‘নতুন যুদ্ধ কৌশলের’ মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে। শুধু আত্মরক্ষা নয়, প্রয়োজনে আক্রমণের জন্যও প্রস্তুত ভারত—নতুন প্রজন্মের এই প্রযুক্তির সৌজন্যে।
যুদ্ধের ময়দানে শুধু সাহস নয়, প্রযুক্তিই শেষ পর্যন্ত জয় নির্ধারণ করে। আর এই প্রযুক্তির লড়াইয়ে ভারত আজ নিখুঁত এবং ভয়ঙ্কর!