ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হলো এক নতুন পালক। আর এবার ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তির প্রশংসা এল সুদূর রাশিয়া থেকে। কল্পনা করুন এমন এক মিসাইলের কথা, যা শত্রুর রাডারকে ফাঁকি দিয়ে মাঝ আকাশে সাপের মতো এঁকেবেঁকে চলে, আর শেষ মুহূর্তে এমন গতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে যে আধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও তাকে আটকাতে হিমশিম খায়! হ্যাঁ, আমরা কথা বলছি ভারতের নিজস্ব Pralay ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক মিসাইল বা প্রলয় মিসাইল নিয়ে।
সম্প্রতি প্রখ্যাত রুশ সামরিক বিশ্লেষক ইভজেনি দমনতসেভ এই ভারতীয় মিসাইলটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, Pralay মিসাইলটি সাধারণ ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং উন্নত হাইপারসোনিক সিস্টেমের ঠিক মাঝামাঝি একটি বিশেষ জায়গা দখল করে নিয়েছে, যা বর্তমান বিশ্বের তাবড় তাবড় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধূলিসাৎ করতে সক্ষম।
কেন এত প্রশংসা? কী আছে এই ‘Pralay’ মিসাইলে?
সম্প্রতি উড়িষ্যা উপকূলে DRDO (Defence Research and Development Organisation) এই মিসাইলটির সফল ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে। এই ট্রায়ালের পরেই ইভজেনি দমনতসেভ তাঁর বিশ্লেষণে মিসাইলটির ‘অপারেশনাল রেডিনেস’ বা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতির প্রশংসা করেন।
তিনি বিশেষ করে জোর দিয়েছেন এর Salvo Launch ক্ষমতার ওপর। সহজ ভাষায় বললে, একটি মোবাইল লঞ্চার থেকে চোখের পলকে পরপর দুটি মিসাইল ফায়ার করার ক্ষমতা রাখে Pralay। এর ফলে শত্রুপক্ষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের ডিফেন্স সিস্টেমকে অকেজো করে দেওয়া সম্ভব হয়।
প্রযুক্তির কারসাজি: রাডারকে বোকা বানানোর কৌশল
এই মিসাইলটি দুই স্টেজের এবং এটি সলিড প্রোপেলান্ট রকেট মোটর দিয়ে চলে। তবে এর আসল জাদু হলো এর নেভিগেশন বা দিক নির্ণয় ব্যবস্থায়। এতে রয়েছে অত্যাধুনিক ইনার্শিয়াল সিস্টেম এবং GPS আপডেট। ভবিষ্যতে এতে ‘অ্যাকটিভ-প্যাসিভ হোমিং হেড’ লাগানো যাবে, যার ফলে এটি রেডিও সিগন্যাল বা রাডার এমিটিং টার্গেটকে (যেমন শত্রুর রাডার স্টেশন) খুঁজে বের করে ধ্বংস করতে পারবে।
হাইপারসোনিক গতি এবং মাঝ আকাশে ভেলকি!
ইভজেনি দমনতসেভ-এর মতে, Pralay-এর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হলো এর ‘হাইপারসোনিক ম্যানুভার’।
- বিশাল গতি: মিসাইলটি যখন ওপরে ওঠে বা বুস্ট ফেজে থাকে, তখন এর গতি পৌঁছায় ঘণ্টায় প্রায় 6,480 km/h-এ!
- টার্মিনাল ফেজ বা শেষ মুহূর্ত: যখন এটি লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে যায়, তখন এর গতি থাকে সেকেন্ডে 1,300 থেকে 850 meter-এর মধ্যে।
- আকাশে দোল খাওয়া: মাঝপথে এটি সোজা না গিয়ে কন্ট্রোল্ড ওয়েতে পথ বদলাতে পারে, যা শত্রুর রাডারকে বিভ্রান্ত করে দেয়।
- ৯০ ডিগ্রি ডাইভ: মিসাইলটি লক্ষ্যের একদম কাছে এসে হঠাৎ একটা ‘পুল-আপ’ ম্যানুভার করে এবং প্রায় 90 degree অ্যাঙ্গেলে সোজা ওপর থেকে নিচে আছড়ে পড়ে। এই সময় এর গতি থাকে Mach 3 থেকে Mach 4-এর মধ্যে।
শত্রুর বুকে কাঁপন ধরাবে পেলোড ফ্লেক্সিবিলিটি
রুশ বিশ্লেষক আরও জানিয়েছেন, এই মিসাইলটি কতটা ভারী বিস্ফোরক বা ওয়ারহেড বহন করবে, তা মিশনের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তন করা যায়। এটি 350 kg থেকে শুরু করে প্রায় 1,000 kg পর্যন্ত ওয়ারহেড বইতে পারে। অর্থাৎ, প্রয়োজন অনুযায়ী রেঞ্জ এবং ধ্বংসক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।
ইভজেনি দমনতসেভ পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, “Pralay-এর এই অদ্ভুত আক্রমণাত্মক ভঙ্গি পয়েন্ট-ডিফেন্স ইন্টারসেপ্টরদের ভাবার সময় দেয় না, ফলে এর সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।”
ভারতের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক বিশাল গর্বের মুহূর্ত। রুশ বিশ্লেষকের এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে, Pralay শুধু একটি দেশীয় মিসাইল নয়, বরং এটি একটি বিশ্বমানের গেম-চেঞ্জার। ভারতীয় সেনার হাতে এই অস্ত্র থাকা মানে শত্রুপক্ষকে আক্রমণের আগে দশবার ভাবতে হবে!