আরব সাগরে মুখোমুখি ভারত ও পাকিস্তান! দুই দেশের নৌবাহিনীর মহড়া ঘিরে চাঞ্চল্য বাড়ছে

India vs Pak marine

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা আবার তুঙ্গে। সাম্প্রতিক এক খবরে জানা গেছে, ১১ই এবং ১২ই আগস্ট, ২০২৫ তারিখের মধ্যে আরব সাগরে ভারত ও পাকিস্তান তাদের নিজ নিজ নৌ-মহড়া শুরু করতে চলেছে। এই দুটি দেশ একে অপরের থেকে মাত্র ৬০ নটিক্যাল মাইল দূরত্বে এই সামরিক মহড়া চালাচ্ছে, যা সামরিক বিশ্লেষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

এই সামরিক প্রস্তুতিকে শুধু রুটিন মহড়া হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা। সামরিক সূত্র অনুযায়ী, দুই দেশই তাদের নিজ নিজ সামুদ্রিক অঞ্চলে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করে ‘নোটিস টু এয়ারম্যান’ (NOTAM) জারি করেছে। ভারতের নৌ মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে গুজরাটের পোরবন্দর এবং ওখা উপকূলের কাছে, আর ঠিক সেই সময় পাকিস্তান তাদের জলসীমার মধ্যে লাইভ ফায়ারিং অনুশীলন করবে।

এই মহড়াগুলো বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, মাত্র কয়েক মাস আগেই উভয় দেশ এক তীব্র সংঘাতের মধ্যে দিয়ে গেছে। গত ২২শে এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও-এ একটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিরীহ নাগরিক নিহত হন। এই হামলার জবাবেই ভারত সরকার গত ৭ই মে, ২০২৫ তারিখে অপারেশন সিঁদুর’ নামে একটি কঠোর সামরিক অভিযান শুরু করে।

অপারেশন সিঁদুর’ শুধুমাত্র একটি প্রতিশোধমূলক অভিযান ছিল না, এটি ছিল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের দৃঢ় সংকল্পের এক দৃষ্টান্ত। এই অভিযানে ভারতীয় সামরিক বাহিনী পাকিস্তানের ভিতরে এবং পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে অবস্থিত সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালায়। এতে জইশ-এ-মহম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈবা-র মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলির ১০০ জনেরও বেশি জঙ্গি নিহত হয়। এই অপারেশনে ভারতীয় বিমান বাহিনী একাধিক পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ভূপতিত করে এবং ইতিহাসের প্রথম দুটি পারমানবিক শক্তি সম্পন্ন দেশের মধ্যে ড্রোন যুদ্ধও সংঘটিত হয়।

এই তীব্র সংঘাতের পর, দুই দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস-এর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ১০ই মে তারিখে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। সেখানে কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছিল না। কিন্তু এই মহড়া আবারও প্রমাণ করে দিল যে, যুদ্ধবিরতি হলেও উভয় দেশের সামরিক প্রস্তুতি ও সতর্কতা কোনো অংশে কমেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় নৌবাহিনী তাদের মহড়ায় অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ এবং সম্ভবত বিমানও ব্যবহার করবে। অন্যদিকে পাকিস্তান নৌবাহিনী-র এই একই সময়ে মহড়া দেওয়ার ঘটনাকে তাদের যুদ্ধপ্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

অপারেশন সিঁদুর -এর মতো একটি তীব্র সংঘাতের ঠিক পরেই আরব সাগরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোরে এই ধরনের সামরিক মহড়া চালানো, দুই দেশের মধ্যেকার চাপা উত্তেজনা এবং কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরে। এই মহড়াগুলি একদিকে যেমন সামরিক প্রশিক্ষণের অঙ্গ, তেমনি অন্যদিকে তা ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের কঠোর বাস্তবতাকেও তুলে ধরে।

এই মুহূর্তে

ইয়ান লেকান অ্যানথ্রোপিকের ৫০% চাকরি হারানোর পূর্বাভাস খারিজ করলেন মেটার প্রধান এআই বিজ্ঞানী

AI Chatbot আত্মহত্যা: চ্যাটবটের পরামর্শে ব্যক্তির মৃত্যু, উঠছে গুরুতর প্রশ্ন

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬: বাঁশের বেড়া থেকে এআই প্রযুক্তি, অভূতপূর্ব সুরক্ষা

Project বিষ্ণুর ET-LDHCM হাইপারসনিক মিসাইল: ভারত Mach 8 গতির পথে