ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে DURGA-2 (DURGA-2) নামে একটি ১০০ কিলোওয়াটের শক্তিশালী লেজার অস্ত্র মোতায়েন করতে চলেছে। এটি ভারতের নির্দেশিত শক্তিভিত্তিক যুদ্ধ সক্ষমতায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা আকাশপথে উদ্ভূত হুমকি মোকাবিলায় দ্রুত এবং সাশ্রয়ী প্রতিরক্ষা ঢাল হিসেবে কাজ করবে। শত্রুর ড্রোন, লয়টারিং যুদ্ধাস্ত্র এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র অকেজো করতে এটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। ডিরেকশনালি আনরিস্ট্রিকটেড রে-গান অ্যারে (Directionally Unrestricted Ray-Gun Array) নামক এই DURGA-2 (DURGA-2) সিস্টেমটি ভারতের পূর্বের ২৫ কিলোওয়াটের লেজার ব্যবস্থা থেকে অনেক বেশি উন্নত। আগের ব্যবস্থাগুলো মূলত শত্রুর সেন্সরকে ঝলসে দিতে পারত, কিন্তু নতুন এই ১০০ কিলোওয়াটের লেজারটি ড্রোনকে মাঝ আকাশে পুড়িয়ে দিতে এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ইনফ্রারেড সিকার (infrared seekers) বিকল করে দিতে সক্ষম। এটি একটি নিছক প্রতিরোধক না হয়ে, একটি মারণাস্ত্র হিসেবে কাজ করবে। DURGA-2 (DURGA-2) এর ভিত্তি স্থাপন হয়েছে পূর্ববর্তী সফল পরীক্ষার মাধ্যমে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে একটি ৩০ কিলোওয়াটের ট্রাক-মাউন্টেড (truck-mounted) লেজার অস্ত্র পাঁচ কিলোমিটার দূর থেকে ড্রোন ধ্বংস করতে সফল হয়েছিল। বর্তমানে, প্রকৌশলীরা এই প্রযুক্তিকে সমুদ্রের প্রতিকূল পরিবেশের জন্য ‘মেরিনাইজেশন’ (marinization) করছেন। এটি কাজ শুরু করলে, ভারতের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধজাহাজ বিশাখাপত্তনম-শ্রেণির (Visakhapatnam-class) স্টিলথ ডেস্ট্রয়ারগুলিতে (stealth destroyers) এটি স্থাপন করা হবে। সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের বিপরীতে, লেজার অস্ত্রের কোনো সীমিত ম্যাগাজিন (magazine) নেই এবং এটি দ্রুত লক্ষ্য পরিবর্তন করতে পারে, যা ড্রোন ঝাঁক বা একসাথে অনেকগুলো হামলার বিরুদ্ধে কার্যকর। এই সক্ষমতা কেবল ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়াবে না, বরং নৌ প্রতিরক্ষার অর্থনীতিকেও নতুন রূপ দেবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মতো বিশ্বের অভিজাত দেশগুলির সারিতে ভারতও এই উন্নত ব্যবস্থা মোতায়েন করার পথে। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ (Aatmanirbhar Bharat) উদ্যোগের অধীনে এই কৌশলগত পদক্ষেপটি কম খরচের আকাশপথে হুমকির ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে, যা ভারতের সামুদ্রিক ঢালকে অদম্য করে তুলবে। সমুদ্রের পরিবেশে এই সিস্টেমের কার্যকারিতা প্রমাণের জন্য আসন্ন পরীক্ষাগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রতিরক্ষা অবস্থানকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে।