টেক ডেস্কঃ ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল DRDO এবং কল্যাণী গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে তৈরি দ্বিতীয় প্রজন্মের Wheeled Armoured Platform (WhAP) 8×8। এটি এখন নিছকই সৈন্য বহনকারী যান নয়, বরং একটি অত্যাধুনিক, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কড মাল্টি-রোল ইনফ্যান্ট্রি ভেহিকেল, যা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয় সেনার ক্ষমতাকে আমূল বদলে দেবে। পূর্ব লাদাখের মতো উচ্চতাসম্পন্ন এলাকায় প্রথম প্রজন্মের সাফল্যের পর, এই নতুন সংস্করণটি আরও বেশি বিধ্বংসী।
এই নতুন WhAP 8×8-এর মূল অস্ত্র হলো প্রমাণিত 2A42 30mm অটো-ক্যানন, যা শত্রুপক্ষের পদাতিক সৈন্য থেকে শুরু করে হালকা সাঁজোয়া যান, এমনকি ড্রোনও ধ্বংস করতে সক্ষম। এর পাশাপাশি রয়েছে 7.62mm কোঅক্সিয়াল মেশিন গান এবং 12.7mm হেভি মেশিন গান সহ রিমোট ওয়েপন স্টেশন, যা নিরবচ্ছিন্ন ফায়ার সাপোর্ট দেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি “ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট” ম্যান-পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (MPATGM)-এর জন্য টুইন-লঞ্চার, যা মূল যুদ্ধট্যাঙ্ক ধ্বংস করতে সক্ষম।
যানটির বুদ্ধিমত্তা অত্যাশ্চর্য। এতে রয়েছে স্যাফরান PASEO সাইটিং সিস্টেম, যা ‘হান্টার-কিলার’ ক্ষমতা প্রদান করে। এর ফলে কমান্ডার এক লক্ষ্যবস্তুতে গুলি চালানোর সময়ই অন্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারেন, যা প্রতিক্রিয়ার সময়কে দ্রুত করে। সুরক্ষার জন্য রয়েছে সাব লেজার ওয়ার্নিং স্যুট, যা লেজার আক্রমণের আভাস পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় করে।
এত শক্তিশালী অস্ত্র ও সুরক্ষা থাকা সত্ত্বেও, WhAP 8×8 তার উভচর ক্ষমতা ধরে রেখেছে। উন্নত পাম্প-জেট প্রপালশন এটিকে জলে সহজে চলতে সাহায্য করে। ভেতরে চালকের জন্য রয়েছে আধুনিক ডে/নাইট ইলেকট্রনিক ভিশন সিস্টেম এবং সৈন্যদের জন্য ফায়ারিং পোর্ট, যা অপারেশনাল দক্ষতা এবং সৈন্যদের নিরাপত্তা উভয়ই নিশ্চিত করে। এই দ্বিতীয় প্রজন্মের WhAP 8×8 ভারতের প্রতিরক্ষায় এক যুগান্তকারী সংযোজন হতে চলেছে।