টেক ডেস্কঃ চীনের ক্রমবর্ধমান নৌবাহিনীর মোকাবিলায় ভারত এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্রহ্মস-এনজি কর্মসূচির ফ্লাইট ট্রায়াল ২০২৭ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো আরও শক্তিশালী এবং সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা। এটি কোনো ব্যর্থতা নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। কঠোরতর অপারেশনাল প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, স্টিলথ ক্ষমতা এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারের উপযোগিতা বাড়ানো হচ্ছে।
পুনরায় নকশা করা ব্রহ্মস-এনজি তার পূর্বসূরীর চেয়ে আকারে ছোট ও ওজনে হালকা হবে। এর ফলে HAL TEJAS Mk-1A, MiG-29UPG, Su-30MKI যুদ্ধবিমান ছাড়াও সাবমেরিন এবং যুদ্ধজাহাজ থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা যাবে। Mach 2.8-3.5 এর অত্যাধুনিক গতি এবং ২০০-৩০০ কেজি ওয়ারহেড বহনের ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ থাকবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এতে DRDO দ্বারা তৈরি দেশীয় লিকুইড-ফুয়েল রামজেট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে, যা রাশিয়ার প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা কমিয়ে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গঠনে সহায়ক হবে।
এই কৌশলগত পরিবর্তনের ফলে নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ১,৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি হতে পারে, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের বিরুদ্ধে ভারতের একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করবে। বর্তমান ব্রহ্মস উৎপাদনে কিছু সাময়িক ব্যাঘাত ঘটলেও, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলিতে এর সফল রপ্তানি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তির ক্রমবর্ধমান শক্তিকে প্রমাণ করে। এই বিলম্ব নিশ্চিত করবে যে ভারত একটি সত্যিকারের অত্যাধুনিক সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম, যা চীনের সামুদ্রিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশের প্রতিরক্ষা কৌশলকে আরও মজবুত করবে।