টেক ডেস্কঃ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতেই ভারত ২০৩০-৩২ সালের মধ্যে কলকাতায় তার অত্যাধুনিক Kusha Air Defence System (ADS) মোতায়েনের কৌশলগত পরিকল্পনা করছে। বাংলাদেশের সম্ভাব্য মক্কা প্যাক্টে (Mecca Pact) যোগদানের খবরের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ, যা আঞ্চলিক সামরিক সমীকরণকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
ডিআরডিও (DRDO) দ্বারা পরিচালিত ‘প্রোজেক্ট কুশা’ ভারতের নিজস্ব উদ্ভাবন, যা রাশিয়ার S-400-এর মতো উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সমকক্ষ বা তার থেকেও উন্নত হওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই সিস্টেমে M1, M2 এবং M3 নামের তিনটি ভিন্ন ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে, যা ১৫০ কিমি থেকে ৪০০ কিমি পর্যন্ত পাল্লায় স্টিলথ ফাইটার জেট, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাইপারসনিক যান সহ বিভিন্ন উচ্চ-গতির লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে সক্ষম। M1 ভ্যারিয়েন্টের পরীক্ষামূলক উড়ান ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের কাছাকাছি এবং কৌশলগত বঙ্গোপসাগরের উপকণ্ঠে অবস্থিত হওয়ায় কলকাতা পূর্বাঞ্চলীয় আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখার জন্য আদর্শ স্থান। শুধুমাত্র ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাই নয়, Kusha Air Defence System অত্যাধুনিক কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তির সাথেও সমন্বিত হবে, যার মধ্যে ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার জ্যামার অন্তর্ভুক্ত। এই বহুমুখী ঢাল সামরিক ঘাঁটি, শহুরে এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে প্রচলিত ও অসম উভয় ধরনের হুমকি থেকে রক্ষা করবে।
এই বিশাল বিনিয়োগ, যার প্রতিটি দীর্ঘপাল্লার ইন্টারসেপ্টর ইউনিটের আনুমানিক খরচ ১,২০০ থেকে ১,৮০০ কোটি টাকা, ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা সামরিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সেন্সর প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতার দিকে ভারতকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কলকাতায় Kusha Air Defence Deployment ভারতের দৃঢ় এবং সক্রিয় অবস্থানকে তুলে ধরে, যা ক্রমবর্ধমান অনিশ্চিত অঞ্চলে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্থাপন করবে।