ভারত ও গ্রিসের মধ্যে একটি সম্ভাব্য মিসাইল চুক্তি ঘিরে এখন আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনার ঢেউ। তুরস্কের সংবাদমাধ্যমে ইতিমধ্যেই এই খবর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারতের তৈরি LR-LACM (Long-Range Land Attack Cruise Missile)—যার ক্ষমতা ও পরিসীমা তুরস্কের সামরিক শক্তির জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ভারত-গ্রিসের সামরিক বন্ধুত্বের নয়া অধ্যায়
সম্প্রতি ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান এয়ার মার্শাল এপি সিং গ্রিস সফরে গিয়ে গ্রিক বিমানবাহিনীর প্রধানের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। আলোচনা হয় যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং অপারেশন সিঁদুর থেকে পাওয়া ভারতের যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে। গ্রিসে অনুষ্ঠিত DEFEA 2025 প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে ভারত তাদের অত্যাধুনিক LR-LACM মিসাইল প্রদর্শন করে এবং গ্রিসের কাছে এর সরবরাহ নিয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক প্রস্তাব রাখে বলে খবর। যদিও এখনো কোনও অফিসিয়াল চুক্তি করা হয়নি।
LR-LACM: ভারতের গর্ব
LR-LACM হলো ভারতের তৈরি সাবসনিক ক্রুজ মিসাইল, যা ১,৫০০ কিমি পরিসীমা পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি সাধারণ এবং পারমাণবিক, উভয় ধরনের যুদ্ধাস্ত্র বহন করতে পারে। মাটির গাঁ ঘেঁষে উড়ে রাডার ফাঁকি দিয়ে এগিয়ে গিয়ে টার্গেটে আঘাত করতে পারাটাই এর বিশেষত্ব। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে এই মিসাইলের সফল পরীক্ষার পর থেকেই এটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের নজরে এসেছে।
তুরস্কের প্রতিক্রিয়া: আতঙ্ক না আশঙ্কা!
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মহল এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশ এই সম্ভাব্য চুক্তিকে তুরস্কের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছে। বিশেষত, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে তুরস্ক পাকিস্তানকে ড্রোন পাঠিয়ে সাহায্য করেছিল, যেগুলো পরবর্তীতে ভারতের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাছে ধ্বংস হয়ে যায়। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তুর্কি ড্রোনের বিশ্বাসযোগ্যতা হোঁচট খায়।
এবার সেই তুরস্ক আশঙ্কা করছে, যদি গ্রিস ভারতের LR-LACM মিসাইলকে তাদের Rafale ও F-16 Viper যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে, তাহলে তুরস্কের ইজমির, চানাক্কালে বা আঙ্কারা-র মতো সামরিক ঘাঁটিগুলি বিপদের মুখে পড়বে।
ভূ-রাজনীতির পালাবদল?
গ্রিস তাদের সামরিক বাহিনীকে আধুনিক করতে রাশিয়ান অস্ত্র বাদ দিয়ে ইসরায়েল ও পশ্চিমা প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। সেই প্রয়াসেই ভারতের এই মিসাইল একটি বড় সংযোজন হতে পারে। অন্যদিকে, গ্রিস-তুরস্কের বহুদিনের দ্বন্দ্ব—এজিয়ান সাগরের নিয়ন্ত্রণ, আকাশসীমা, সাইপ্রাস ইস্যু ইত্যাদি—এখন আরও জটিল হতে পারে এই চুক্তির ফলে।
যদিও ভারত-গ্রিস মিসাইল চুক্তি এখনো অফিসিয়াল নয়, তবুও এই গুঞ্জন পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনার বারুদ ছড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে ভারতের প্রযুক্তিগত সাফল্য, অন্যদিকে গ্রিসের কৌশলগত চাহিদা—এই যুগলবন্দি তুরস্কের নিরাপত্তা পরিকাঠামোতে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে। এখন দেখার, এই সম্ভাব্য চুক্তি কীভাবে পরিণত হয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তার প্রভাব কতটা পড়ে।