ভারতের কৌশলগত গ্রেট নিকোবর বন্দর প্রকল্পে বাধা দিতে চিন একটি সুসংগঠিত ‘ভুয়ো তথ্য’ অভিযান শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বেজিং এই বহু বিলিয়ন ডলারের উদ্যোগকে পরিবেশগতভাবে ধ্বংসাত্মক এবং রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত হিসাবে চিত্রিত করার চেষ্টা করছে, যার লক্ষ্য প্রকল্পের অগ্রগতি মন্থর করা। চিনের এই গোপন পদক্ষেপের মূলে রয়েছে তাদের গভীর ‘মালাক্কা দোটানা’ – যেখানে তাদের ৮০% তেল আমদানি এবং দুই-তৃতীয়াংশ বাণিজ্য মালাক্কা প্রণালীর সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে যায়।
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের উপর ভারতের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ, বিশেষত সিক্স ডিগ্রি চ্যানেলের মুখে গ্রেট নিকোবর বন্দরের অবস্থান, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথের উপর ভারতকে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ দেয়। এটিই বেজিং-এর প্রধান উদ্বেগের কারণ। প্রায় ₹৮১,০০০ কোটি ($১০ বিলিয়ন) মূল্যের এই প্রকল্পটি, নীতি আয়োগ দ্বারা পরিকল্পিত, গ্রেট নিকোবরকে একটি প্রধান বাণিজ্যিক ও কৌশলগত কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর মূল আকর্ষণ গালাথিয়া বে-তে একটি ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর, যা সিঙ্গাপুরের ক্ষমতার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্য রাখে। এর পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর এবং একটি বৃহৎ সৌর ও গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রও নির্মাণ করা হচ্ছে। এই দ্বৈত-ব্যবহারের অবকাঠামো ভারতের সামুদ্রিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
পরিবেশগত উদ্বেগ বাড়িয়ে এবং ভারতের রাজনৈতিক মহলে বিরোধিতা উস্কে দেওয়ার চিনের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল এর পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়ে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করায় ভারত আইনি বাধাগুলি অতিক্রম করেছে। চীনের এই Great Nicobar Port disinformation campaign, ভারতের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক ক্ষমতা সম্পর্কে বেজিং-এর উদ্বেগ এবং তার নিজস্ব দুর্বল বাণিজ্য পথ রক্ষা করার দৃঢ় সংকল্পের ইঙ্গিত দেয়।