টেক ডেস্কঃ ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে এক বিশাল পরিবর্তন আসতে চলেছে, যেখানে বেসরকারি শিল্পকে কাজে লাগিয়ে তৈরি হচ্ছে এক যুগান্তকারী Indigenous Hyper-Velocity Railgun। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)-এর এই উচ্চাভিলাষী উদ্যোগের লক্ষ্য হল ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক লঞ্চার প্রযুক্তিকে পরীক্ষাগারের গণ্ডি পেরিয়ে শিল্প উৎপাদনে নিয়ে আসা।
সম্প্রতি হেভি ভেহিকেলস ফ্যাক্টরি এবং আর্মড ভেহিকেলস নিগম লিমিটেডের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান ও শিল্প অংশীদারিত্বের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রচলিত কামানের মতো রাসায়নিক প্রোপেল্যান্টের বদলে, এই রেলগান সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে অভূতপূর্ব গতিতে প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করে। DRDO-এর পরিকল্পনা হল, একটি ১০০-মেগাজুল সিস্টেম তৈরি করা যা ১৮ কেজি ওজনের পেলোডকে প্রতি সেকেন্ডে ২০০০ মিটারেরও বেশি গতিতে উৎক্ষেপণ করতে পারবে, যা প্রচলিত ট্যাঙ্কের গোলার গতিকেও ছাড়িয়ে যাবে।
যদিও বর্তমানে ১০-মেগাজুল উৎক্ষেপণ সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে, তবুও বিদ্যুৎ উৎপাদন, ব্যারেলের চরম ক্ষয় এবং তাপীয় চাপ সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য অত্যাধুনিক উপকরণ এবং উন্নত সুইচিং প্রযুক্তির প্রয়োজন। এই প্রযুক্তির সফল বিকাশ নৌবাহিনীর স্ট্রাইক, বিমান প্রতিরক্ষা এবং জাহাজ-বিধ্বংসী সক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেবে, পাশাপাশি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক এয়ারক্রাফট লঞ্চ সিস্টেমের মতো প্রকল্পেও সহায়তা করবে।
বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় ভারত সেই নির্বাচিত দেশগুলির তালিকায় নাম লেখাল যারা এই পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির পেছনে ছুটছে, যার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং জাপানও রয়েছে। এই অংশীদারিত্ব ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত চিহ্নিত করে, যা ইঞ্জিনিয়ারিং-এর বিশাল বাধাগুলি অতিক্রম করে ভারতকে উন্নত প্রতিরক্ষা উদ্ভাবনের অগ্রভাগে স্থাপন করবে।