টেক ডেস্কঃ ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) ঘোষণা করেছে যে, তারা মার্কিন সংস্থা GE অ্যারোস্পেসের সঙ্গে উন্নতমানের GE F414 ইঞ্জিন স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সমস্ত প্রযুক্তিগত সমস্যা সফলভাবে সমাধান করেছে। এই সাফল্যের ফলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে একটি বাণিজ্যিক প্রস্তাব আসার পথ প্রশস্ত হয়েছে, যা ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্যে একটি বড় মাইলফলক।
HAL-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রবি কে. সম্প্রতি জানিয়েছেন, GE অ্যারোস্পেস বাণিজ্যিক কাঠামো তৈরির জন্য তিন মাস সময় চেয়েছিল, যা এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রযুক্তিগত বিষয়গুলি চূড়ান্ত হওয়ায়, এবার উভয় পক্ষ সামগ্রিক মূল্য, পর্যায়ক্রমিক উৎপাদন সময়সূচী এবং ঐতিহাসিক ৮০% প্রযুক্তি হস্তান্তরের (Transfer of Technology – ToT) মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক দিকগুলি নিয়ে সরাসরি আলোচনা শুরু করতে পারবে। এই ToT ভারতের নিজস্ব বিমান ইঞ্জিন তৈরির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই শক্তিশালী আফটারবার্নিং টার্বোফ্যান ইঞ্জিনটি ভারতের আসন্ন লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট (LCA) তেজস Mk2 এবং অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (AMCA)-এর প্রথম দুটি স্কোয়াড্রনকে শক্তি যোগাবে। প্রাথমিকভাবে, তেজস Mk2 কর্মসূচির জন্য অন্তত ৯৯টি GE F414 ইঞ্জিন দেশেই তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী আরও বাড়তে পারে।
দেশে এই ইঞ্জিন উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে তোলা অত্যাবশ্যক। এটি সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা দূর করবে, দীর্ঘমেয়াদী বিমান রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করবে এবং ভারতকে ভবিষ্যতে নিজস্ব উন্নত প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন সহ-উন্নয়ন বা স্বাধীনভাবে ডিজাইন করার জন্য শিল্পগত ভিত্তি তৈরি করবে। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছ থেকে HAL-কে ‘অ্যাক্সেপটেন্স অফ নেসেসিটি’ (AoN) অনুমোদন নিতে হবে।