টেক ডেস্কঃ ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস এবং ডিআরডিও-র (DRDO) যৌথ উদ্যোগে। এই পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলের অধীনে, ভারত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, নির্ভুল আঘাত হানার অস্ত্র এবং অত্যাধুনিক কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তিতে বেশ কিছু যুগান্তকারী “Adani DRDO defence breakthroughs” অর্জন করেছে, যা আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে।
উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে ন্যাভাল অ্যান্টি-শিপ মিসাইল-শর্ট রেঞ্জ (NASM-SR), যা ভারতের প্রথম দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিমান-নিক্ষিপ্ত জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। ভারতীয় নৌবাহিনী বঙ্গোপসাগরে এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে, যা সমুদ্রসীমায় ভারতের আক্রমণ ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়েছে এবং আমদানি নির্ভরতা কমিয়েছে। এর পাশাপাশি, ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ অগমেন্টেশন (TARA) গ্লাইড উইপন কিট ভারতীয় বিমানবাহিনীর নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে, যা সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে উচ্চ নির্ভুলতার সাথে আঘাত হানতে সক্ষম।
এই অংশীদারিত্বের আরও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হল অ্যারো ইন্ডিয়া ২০২৫-এ উন্মোচিত ভেহিক্যাল-মাউন্টেড কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেম। রাডার, ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল সেন্সর এবং উচ্চ-শক্তির লেজার সহ এই মোবাইল সিস্টেমটি ক্রমবর্ধমান বিমান হামলার বিরুদ্ধে শক্তিশালী সুরক্ষা প্রদান করে। এছাড়া, ইউএভি (UAV) থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য নির্ভুল-নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র (ULPGM-V3) স্থল এবং আকাশে উভয় ধরনের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য চূড়ান্ত পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে, যা সম্পূর্ণ দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খলের সক্ষমতা প্রমাণ করে।
এই সাফল্যগুলি ভারতের PPP-নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা মডেলের কার্যকারিতা তুলে ধরে। ডিআরডিও-র গবেষণা দক্ষতা এবং বেসরকারি খাতের উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে একত্রিত করে ভারত সমুদ্র, আকাশ ও অসম যুদ্ধের ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এই কৌশলগত পদক্ষেপ শুধু দেশের সার্বভৌমত্বকেই শক্তিশালী করছে না, বরং উন্নত সামরিক প্রযুক্তির বিশ্বব্যাপী রপ্তানিকারক হিসাবে ভারতকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিচ্ছে, যা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন এবং স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করছে।