টেক ডেস্কঃ ভারত তার প্রতিরক্ষা খাতে (defence sector) বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI) নীতি আরও শিথিল করার কথা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের লক্ষ্য হল বিদেশি পুঁজি ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আকর্ষণ করে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করা। শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য প্রচার বিভাগ (DPIIT) বর্তমানে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (stakeholders) সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে, যাতে চূড়ান্ত নীতি নির্ধারণ করা যায়।
বর্তমানে, ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত FDI স্বয়ংক্রিয় পথে (automatic route) অনুমোদিত, অর্থাৎ এর জন্য সরকারের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয় না। তবে, এর বেশি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে, বিশেষ করে যখন এর মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়। এই সংবেদনশীল খাতে সমস্ত বিদেশি বিনিয়োগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (Ministry of Home Affairs) নিরাপত্তা ছাড়পত্র (security clearance) এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের (Ministry of Defence) নির্দেশিকা মেনে চলতে বাধ্য, যাতে জাতীয় নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ থাকে।
ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পকে স্বনির্ভর করতে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। সরকার এই খাতে উৎপাদন বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ফলে প্রতিরক্ষা বাজেট ও রপ্তানি উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে বার্ষিক ৩ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং ৫০,০০০ কোটি টাকার রপ্তানির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। “FDI in defence sector” নিয়ম শিথিল করে ভারত চাইছে বিদেশি অংশীদারিত্ব বাড়াতে, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে এবং দেশকে একটি বিশ্বমানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করতে। বেসরকারি ক্ষেত্র (private sector) ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে প্রায় অর্ধেক অবদান রাখছে, যা এই খাতে আরও বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে তুলে ধরছে।