টেক ডেস্কঃ ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০,০০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ভারত। তবে, প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যেই এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জন করতে চলেছে ভারত, যা নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই। দেশীয় সামরিক হার্ডওয়্যারের প্রতি বিশ্বব্যাপী চাহিদা বৃদ্ধির ফলেই এই অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে। গত বছরই অর্ডারের পরিমাণ ৩৮,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা ২০১৩-১৪ সালের মাত্র ৬৮৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে রেকর্ড ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
এই দ্রুত অগ্রগতির মূল কারণ হলো ভারতের প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র খাতে। ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র বিদেশি উৎপাদনকারীদের (OEM) প্রস্তাবিত দামের প্রায় এক-চতুর্থাংশে পাওয়া যায়, যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। জনপ্রিয় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ইতিমধ্যেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে বিক্রি হচ্ছে বা বিক্রির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আর্টিলারি, মাউন্টেড গান সিস্টেম এবং আকাশ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেমের প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে।
সরকার একটি শক্তিশালী দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন তৈরির জন্য একাধিক উৎপাদন লাইন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বেসরকারি খাতের জন্য গোলাবারুদ এবং প্রোপেলান্ট উৎপাদন উন্মুক্ত করার ফলে স্বনির্ভরতা বাড়ছে এবং অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA)-এর মতো বৃহৎ প্ল্যাটফর্মগুলির জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হচ্ছে।
অর্থনৈতিক লাভ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি, এই প্রতিরক্ষা রপ্তানিগুলি ক্রেতা দেশগুলির সাথে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপনেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং সরবরাহ চেইনে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে। ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা শিল্প কেবল লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করছে না, এটি বিশ্ব মঞ্চে তার ভূমিকা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে।