টেক ডেস্কঃ গত এক দশকে ভারতের অস্ত্র আমদানিতে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের আধিপত্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এটি হঠাৎ কোনো ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং ভারতের এক সুচিন্তিত কৌশলগত পদক্ষেপ। ২০১১-১৫ সালে যেখানে রাশিয়ার অংশীদারিত্ব ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ, ২০২১-২৫ সালের মধ্যে তা ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশলে গভীর বৈচিত্র্যকরণের ইঙ্গিত বহন করে।
এই পতনের পেছনে রয়েছে ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতার বৃদ্ধি, ফ্রান্স (২৯ শতাংশ) ও ইসরায়েলের (১৫ শতাংশ) মতো পশ্চিমা সরবরাহকারীদের থেকে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং রাশিয়ান সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ। অত্যাধুনিক Su-57 যুদ্ধবিমানের ভারতীয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এই প্রবণতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ, যা খরচ এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে বাতিল করা হয়।
আত্মনির্ভরশীলতার দিকে ভারতের ঝোঁক স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ‘সুপার সুখোই’ প্রকল্পে, যেখানে ২০০টির বেশি Su-30MKI বিমানকে প্রায় ৮০ শতাংশ দেশীয় উপাদান ব্যবহার করে আধুনিকীকরণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এতে দেশীয় ‘বিরূপাক্ষ’ AESA রাডার এবং নতুন মিশন কম্পিউটার অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা ২০৫০-এর দশক পর্যন্ত বিমানগুলির কার্যকারিতা বাড়াবে।
যদিও India Russia arms market-এর সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়নি (যেমন অতিরিক্ত S-400 বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় এবং দশ বছরের সামরিক সহযোগিতা চুক্তি), তবে ভারতের কৌশলগত লক্ষ্য এখন একক সরবরাহকারীর উপর নির্ভরতা কমানো। এটি রাশিয়ার প্রভাব হ্রাস করলেও, প্রতিরক্ষা বাস্তুতন্ত্রে তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ, তবে ছোট, অংশীদার হিসেবে ধরে রেখেছে।