হরমুজ সংকটের তীব্র জ্বালানি ঘাটতি সত্ত্বেও ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) কিনতে অস্বীকার করেছে। রাশিয়ার উপ-জ্বালানি মন্ত্রী পাভেল সোরোকিন দিল্লি সফরে এলে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বর্তমানে একটি রুশ LNG ট্যাঙ্কার সিঙ্গাপুরের কাছে গন্তব্যহীনভাবে ভাসছে, যা ভারতের এই প্রত্যাখ্যানের তাৎক্ষণিক প্রভাব তুলে ধরে। ভারত যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্থায়ী ছাড়ের অধীনে রাশিয়ার থেকে কম দামে অপরিশোধিত তেল আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে, তবে LNG-এর ক্ষেত্রে তারা কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
কারণ, গ্যাসের চালান তেলের চেয়ে অনেক বেশি সহজে চিহ্নিত করা যায়, ফলে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের ঝুঁকি বেশি। ভারতের প্রায় অর্ধেক গ্যাসের চাহিদা আমদানি নির্ভর, যার ৬০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসত, যা বর্তমানে ইরান যুদ্ধের কারণে ব্যাহত। বিশ্লেষকরা বলছেন, LNG চুক্তিগুলো সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী হয় এবং রিগ্যাসিফিকেশন টার্মিনালের মতো পরিকাঠামোগত প্রতিশ্রুতি জড়িত থাকে, যা অপরিশোধিত তেলের মতো সহজে গোপন বা পুনঃনির্দেশিত করা কঠিন। এই দৃশ্যমানতা এবং অনুমোদিত পণ্য পরিচালনার সঙ্গে জড়িত খ্যাতিগত ও আর্থিক ঝুঁকি ভারতের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। এই প্রত্যাখ্যান ভারতের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার মধ্যে সতর্ক ভারসাম্যের ইঙ্গিত দেয়।
দেশটি কাতার, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো অ-নিষেধাজ্ঞাভুক্ত সরবরাহকারীদের কাছ থেকে LNG সংগ্রহের প্রচেষ্টা বাড়াতে পারে, যদিও তার খরচ বেশি হতে পারে। ভূ-রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিবেচনার এক জটিল সমন্বয় এই সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়েছে।