ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ফের উত্তেজনা। গত 7 ও 8 মে রাতে পাকিস্তান 15টি ভারতীয় শহরের উপর ড্রোন ও মিসাইল হামলার চেষ্টা করে, যার জবাবে ভারত যে ধরনের প্রযুক্তিগত কৌশল দেখিয়েছে, তা গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছে। ভারতের তিনটি আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—S-400, Spyder ও Akash—মিলে তৈরি করেছে এক ‘অদৃশ্য ঢাল’, যা শত্রুর আক্রমণ ঢুকতেই দিচ্ছে না ভারতীয় আকাশে।
S-400 Triumph – ভারতের ‘সুদর্শন চক্র’
রাশিয়ার তৈরি S-400 Triumph, যার ভারতীয় কোডনাম ‘Sudarshan Chakra’, 2018 সালে ভারত কিনেছিল প্রায় ₹35,000 কোটি টাকায়। এই ব্যবস্থা 400 কিমি দূরের লক্ষ্যবস্তু যেমন শত্রু বিমান, ড্রোন ও মিসাইল—সবকিছু ধ্বংস করতে সক্ষম। এর রাডার একসঙ্গে 100 টিরও বেশি লক্ষ্য ট্র্যাক করতে পারে।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের হামলার চেষ্টায় S-400 প্রথমবার যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে এই ব্যবস্থা পাকিস্তানের একাধিক Bayraktar TB2 ও CH-4 ড্রোন ধ্বংস করে দেয়। ভারতের আকাশরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এটি এখন একটি অভেদ্য ঢাল।
Spyder – দ্রুততম প্রতিক্রিয়ার যন্ত্র
ইসরায়েলের তৈরি Spyder (Surface-to-Air Python and Derby) ভারতের জন্য একটি ‘রিয়েল টাইম’ প্রতিরক্ষা কৌশল। এটি 15 কিমি পর্যন্ত দূরের এবং 20 মিটার থেকে 9,000 মিটার উচ্চতায় থাকা বিমান, হেলিকপ্টার, ড্রোন, এমনকি ক্রুজ মিসাইল পর্যন্ত ধ্বংস করতে পারে।
সবচেয়ে বড় কথা, এটি মোবাইল লঞ্চার থেকে ছোঁড়া যায়, ফলে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে যে কোনও সীমান্তে মোতায়েন সম্ভব। বর্তমানে এটি লাদাখ ও পাঞ্জাব সীমান্তে মোতায়েন আছে এবং সম্প্রতি হামলা রুখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
Akash – ভারতের নিজস্ব গর্ব
ভারতের DRDO (Defence Research and Development Organisation) দ্বারা তৈরি Akash Missile System পুরোপুরি দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত। 30 কিমি দূরত্ব পর্যন্ত শত্রুর বিমান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করতে সক্ষম এই ব্যবস্থা। একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে একসঙ্গে আঘাত হানার ক্ষমতা রয়েছে একে।
2024 সালের জানুয়ারিতে Akash-NG (Next Generation) মিসাইলের সফল পরীক্ষা হয়েছে এবং এখন এটি পূর্ণমাত্রায় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। পাকিস্তানের সাম্প্রতিক হামলার সময় S-400-এর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে Akash। ভারতের এই প্রযুক্তি এতটাই কার্যকরী যে, এটি UAE-এর মতো দেশেও রপ্তানি করার পরিকল্পনা চলছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই তিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা?
পাকিস্তান এখন Bayraktar TB2 ও CH-4 ড্রোনের মাধ্যমে ‘অপ্রথাগত যুদ্ধ’ চালানোর চেষ্টা করছে। তুর্কি ও চীনা প্রযুক্তির এই ড্রোনগুলি শহরের উপর দিয়ে গোপনে ঢুকে ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে। এর জবাবে ভারতের এই তিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শহর, সেনাঘাঁটি ও সীমান্তকে নিরাপদ রাখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রতিক্রিয়া নয়, প্রতিরোধ ক্ষমতাও তৈরি করে ফেলেছে ভারত। আগে যেখানে প্রতিরক্ষা বলতে শুধু সীমান্ত পাহারা বোঝানো হত, এখন প্রযুক্তি-ভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই ভারতের ‘প্রথম লাইন অফ ডিফেন্স’।
S-400, Spyder ও Akash এখন শুধু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নয়, ভারতের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। এগুলি আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে—ভারত আর শুধু প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত নয়, ভারত এখন প্রস্তুত আক্রমণ ঠেকাতে ও পাল্টা জবাব দিতে।