ভারতের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হচ্ছে এক নতুন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী যখন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন, তখন ২১টি তোপধ্বনির জন্য ব্যবহৃত হবে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আর্টিলারি গান। এটি কেবল একটি প্রতীকী ঘটনা নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হবে। “আত্মনির্ভর ভারত” গড়ার যে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন, তার সার্থক প্রতিফলন ঘটছে দেশের সামরিক শক্তির প্রতিটি ধাপে।
সাম্প্রতিক সময়ে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনে থাকা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য ১.০৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম কেনার যে প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, তা এই স্বনির্ভরতারই একটি বড় পদক্ষেপ। এই প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক মিসাইল সিস্টেম, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সামরিক যান। বিশেষত, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য কুইক রিয়্যাকশন মিসাইলগুলি ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সীমান্ত সুরক্ষায় এক নতুন শক্তি দেবে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় অস্ত্র আমদানির উপর নির্ভরশীল ভারত এখন অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও বিশ্বে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে। মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের আওতায় দেশীয় সংস্থাগুলিকে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এর ফলে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাই মজবুত হচ্ছে না, বিপুল কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এই স্বাধীনতা দিবসে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের স্পষ্ট বার্তা হবে, ভারত এখন কেবল তার সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম নয়, বরং যেকোনো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় প্রস্তুত। নতুন প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সাইবার নিরাপত্তা, এখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবিচ্ছেদ্য অংশ। এক নতুন, শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী ভারতের ছবি ফুটে উঠছে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের এই রূপান্তরে।