AI ড্রোনের ভরসায় ইজরায়েলের ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’, ইরানের বুকে নিঃশব্দ বিস্ফোরণ!

Feature T&L

ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে এমন একটি আক্রমণ চালিয়েছে, যা বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং গোপনে প্রবেশ করানো ড্রোনের সাহায্যে ইজরায়েল ইরানের সামরিক শক্তিকে বড় ধরনের আঘাত করেছে। এই অভিযানটি ছিল বছরের পর বছর ধরে পরিকল্পিত একটি গোপন কৌশলের ফল। এতটাই গোপনীয় ছিল এই পরিকল্পনা যে, ইরানের কাছে এর কোনো পূর্বাভাস ছিল না। আসুন জেনে নিই এই অভিযানের নেপথ্যের কাহিনী।

কীভাবে AI ইজরায়েলের হাতিয়ার হলো?

ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং সামরিক বাহিনী এই অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লেটেস্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। ইজরায়েলের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার মতে, AI তথ্য বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিপুল পরিমাণ তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করে লক্ষ্য নির্ধারণে এই প্রযুক্তি সাহায্য করেছে। গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায়, ইজরায়েল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থানগুলোর উপর নজর রাখছিল। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে “অপারেশন রাইজিং লায়ন”

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল ইজরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ নির্মূল করতে এই আক্রমণ জরুরি ছিল। AI-এর সাহায্যে ইজরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, যেমন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করে ধ্বংস করেছে।

গোপন ড্রোনের ভূমিকা

ইজরায়েলের মোসাদ গোয়েন্দারা ইরানের ভেতরে গোপনে ড্রোন এবং অস্ত্র সেট করেছিল। এই ড্রোনগুলো ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের কাছে রাখা হয়েছিল। এই অভিযানে স্থানীয় এবং ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের সমন্বয়ে কাজ করা হয়। রাতের অন্ধকারে ইজরায়েলের যুদ্ধবিমান এবং ড্রোনগুলো ইরানের পারমাণবিক স্থান এবং সামরিক কেন্দ্রে আঘাত হানে। এই আক্রমণে ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন।

ইজরায়েলের এই আক্রমণে ইরানের নাতানজ পারমাণবিক সুবিধা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অভিযানের ফলে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে, এবং তাদের পাল্টা আক্রমণের ক্ষমতা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া

ইজরায়েলের এই আক্রমণের পর ইরান পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ড্রোন দিয়ে ইজরায়েলের বিভিন্ন শহরে হামলা চালানো হয়েছে। তবে, ইজরায়েলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হামলার বেশিরভাগ মিসাইল ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। তবে কিছু মিসাইল ইজরায়েলের তেল আবিব এবং বিয়ারশেবার মতো শহরে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে, যার ফলে বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইজরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধের চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইজরায়েলকে এই আক্রমণের জন্য বড় মূল্য দিতে হবে। ইরানের খোররমশহর মিসাইল এবং আরশ ড্রোন, যা ২০০০ কিলোমিটার দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম, এই যুদ্ধে তাদের প্রধান অস্ত্র।

বিশ্বের প্রতিক্রিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজরায়েলের আক্রমণের বিষয়ে পূর্বেই জানতেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সংঘাত বন্ধের চেষ্টা করছেন। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা এই সংঘাতের তীব্রতা কমাতে উভয় পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে।

এই সংঘাতে AI-এর ব্যবহার যুদ্ধের ধরনকে বদলে দিয়েছে। ইজরায়েলের এই অভিযান প্রমাণ করে যে, আধুনিক যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ড্রোন প্রযুক্তি কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে, এই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। সামাজিক মাধ্যমে এই সংঘাত নিয়ে অনেক ভুয়ো AI ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যা মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

এই মুহূর্তে

ইয়ান লেকান অ্যানথ্রোপিকের ৫০% চাকরি হারানোর পূর্বাভাস খারিজ করলেন মেটার প্রধান এআই বিজ্ঞানী

AI Chatbot আত্মহত্যা: চ্যাটবটের পরামর্শে ব্যক্তির মৃত্যু, উঠছে গুরুতর প্রশ্ন

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬: বাঁশের বেড়া থেকে এআই প্রযুক্তি, অভূতপূর্ব সুরক্ষা

Project বিষ্ণুর ET-LDHCM হাইপারসনিক মিসাইল: ভারত Mach 8 গতির পথে