ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তিকে স্বনির্ভরতার পথে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে, DRDO (Defence Research and Development Organisation) দেশের সেনাবাহিনীর জন্য ২৮টি দেশীয়ভাবে নির্মিত ও ডিজাইন করা অস্ত্র জরুরি ভিত্তিতে কেনাকাটার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে।
এই পদক্ষেপটি সরাসরি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত এবং এসেছে পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলা ও পরে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে অপারেশন সিঁদুর-এ সফলভাবে এই অস্ত্রগুলির ব্যবহারের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে।
স্থলসেনা, নৌ ও বায়ুসেনার জন্য পৃথক তালিকা
সাম্প্রতিক জরুরি ভিত্তিতে কেনাকাটার অনুমতির আওতায়, স্থলসেনা, নৌ ও বায়ুসেনা দ্রুত নতুন অস্ত্র সংগ্রহ করতে পারবে বা পুরনো মজুত পুনরায় পূরণ করতে পারবে। তবে এক-একটি পণ্যের কেনাকাটা সীমা ₹৩০০ কোটি পর্যন্ত নির্ধারিত।
DRDO-র তালিকাভুক্ত অস্ত্রগুলির মধ্যে রয়েছে:
- BrahMos সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল
- MRSAM ও Akash বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
- Pinaka রকেট
- Nag ও HELINA অ্যান্টি-ট্যাংক মিসাইল
- Rudram অ্যান্টি-রেডিয়েশন মিসাইল
- SAAW (Smart Anti-Airfield Weapon)
- দীর্ঘ পাল্লার গ্লাইড বোমা
- উন্নত হালকা ওজনের টর্পেডো
- VSHORADS-NG (Very Short Range Air Defence System – Next Generation)
এই অস্ত্রগুলি তিনটি বাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী ভাগ করা হয়েছে — ১৪টি সেনাবাহিনীর জন্য, ৮টি নৌবাহিনীর জন্য এবং ৬টি বায়ুসেনার জন্য।
উৎপাদন সংস্থার তালিকাও প্রকাশ
DRDO অস্ত্রগুলির উৎপাদনের জন্য বেশ কয়েকটি PSU ও বেসরকারি সংস্থার তালিকাও দিয়েছে, যাতে কিনতে সুবিধা হয় ও স্বচ্ছতা বজায় থাকে। Solar Defence and Aerospace Limited এবং Bharat Dynamics Limited সহ একাধিক সংস্থাকে নির্দিষ্ট অস্ত্র উৎপাদনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
3-6 মাসের মধ্যে ডেলিভারির লক্ষ্যমাত্রা
এই জরুরি কেনাকাটার মাধ্যমে চিরাচরিত দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া এড়িয়ে, মাত্র 3-6 মাসের মধ্যে অস্ত্রসজ্জা বাহিনীর হাতে পৌঁছে দেওয়া যাবে। অপারেশন সিঁদুর-এর আওতায় ₹40,000 কোটির অস্ত্র সংগ্রহের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
অপারেশন সিন্ধূর চলাকালীন পাকিস্তানের আক্রমণ প্রতিহত করতে ও মুরিদ এবং নূর খান এয়ারবেসে পাল্টা হামলা চালাতে DRDO-র অস্ত্রের সফল ব্যবহারে দেশীয় প্রযুক্তির ওপর সেনার আস্থা বেড়েছে।
এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত কেবল বিদেশি অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে না, বরং নিজের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি দৃঢ় করছে — যা ভবিষ্যতের জন্য এক নতুন দিশা।