Techne And Logos

ভারতের ব্রহ্মোস নাকি আমেরিকার টমাহক! কোন আধুনিক মিসাইল শত্রুদের আসল ভয়ের কারণ?

Feature T&L

যুদ্ধ মানেই শুধু গর্জন নয়, নিঃশব্দেও হতে পারে ধ্বংস। আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির এমনই দুটি বিস্ময়কর নাম ব্রহ্মোস ও টমাহক। একদিকে যেমন আছে বাজের মতো গতি, অন্যদিকে আছে স্নাইপারের মতো নিখুঁত গোপনতা। একটিতে ভারত-রাশিয়ার যৌথ প্রযুক্তির গর্ব, আরেকটিতে আমেরিকার বহু বছরের সামরিক কৌশলের পরিণতি। আজকের প্রতিবেদনে চলুন, জেনে নিই এই দুই ক্রুজ মিসাইলের পিছনের শক্তি, বৈশিষ্ট্য ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা।

ব্রহ্মোস: গতির রাজপুত্র

ব্রহ্মোস মিসাইল ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্ভাবন, যার গতি সত্যিই চোখ ধাঁধানো। এটি ম্যাক (Mach) 2.8-3 গতিতে উড়তে সক্ষম, যার মানে ঘণ্টায় প্রায় 3400 থেকে 3700 কিলোমিটার! এই অতি দ্রুত গতি শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে যেন চমকে দেয়, কারণ প্রতিক্রিয়া জানানোর সময়ই থাকে না।

এখানেই শেষ নয়, ব্রহ্মোস এতটাই নির্ভুল যে তার Circular Error Probable (CEP) মাত্র ১ মিটার – মানে একেবারে চোখে চোখ রেখে আঘাত হানার মতো। এটি সমানভাবে দক্ষ জমি, জাহাজ, সাবমেরিন এমনকি বিমান থেকেও লঞ্চ করা সম্ভব।

প্রথম দিকে এর ক্ষমতা ছিল 290-500 কিমি, কিন্তু আধুনিক সংস্করণে তা বেড়ে হয়েছে 650-800 কিমি। ভবিষ্যতের ব্রহ্মোস-২ নাকি উড়বে ম্যাক (Mach) 7 গতিতে – অর্থাৎ হাইপারসনিক গতিতে, যা এক নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে।

এটি “Fire and Forget” প্রযুক্তিতে কাজ করে – একবার উৎক্ষেপণ করলেই নিজে নিজে লক্ষ্য খুঁজে নেয়। এতে রয়েছে Inertial Navigation, Satellite Guidance ও Active Radar Homing, যা একে করে তোলে অত্যাধুনিক।

টমাহক: নিঃশব্দ ঘাতক

টমাহক ক্রুজ মিসাইল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গর্ব। এটি গতি নয়, বরং Stealth (গোপনীয়তা)-কে করে তোলে তার প্রধান শক্তি। এর গতি ম্যাক ০.৭৫ (প্রায় ৮৮০ কিমি/ঘণ্টা), কিন্তু এটি মাত্র ৩০-৫০ মিটার উচ্চতায় মাটি ঘেঁষে ওড়ে, ফলে রাডার এই মিসাইলটি ধরতে পারে না।

টমাহক ব্লক 5 সংস্করণ আঘাত হানতে পারে 1800-2400 কিমি দূরে। এতটা দূরে থেকেও এটি তার লক্ষ্য খুঁজে নিতে পারে GPS, INS, TERCOM ও DSMAC প্রযুক্তির সাহায্যে। এমনকি GPS ছাড়াও এটি কাজ চালিয়ে নিতে পারে। আর আধুনিক সংস্করণে আছে Two-Way Data Link, যার মাধ্যমে মিশন চলাকালীনও লক্ষ্য পরিবর্তন করা সম্ভব।

গালফ ওয়ার-এ প্রথম ব্যবহৃত হওয়ার পর, এটি ইরাক, সিরিয়া প্রভৃতি যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের ক্ষমতার প্রমাণ রেখেছে।

কী কাজে কোনটি?

ব্রহ্মোস যেখানে ব্যবহৃত হয় দ্রুত এবং বিধ্বংসী আঘাতের জন্য – বিশেষ করে উপকূল, সমুদ্র বা স্থলভাগের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর। এটি যেমন আকাশ থেকে নেমে আসে, তেমনই সাগর থেকে উঠে এসে ধ্বংস করে শত্রু জাহাজ।

অন্যদিকে, টমাহক ব্যবহৃত হয় গোপনে, দীর্ঘ দূরত্বে শত্রুর কমান্ড সেন্টার, বিমানঘাঁটি বা অবকাঠামো ধ্বংস করার জন্য। একে বলা যেতে পারে যুদ্ধের প্রথম নিঃশব্দ ঘাতক।

ব্রহ্মোস এখন Hypersonic প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে, যা তাকে আগামী দিনে আরও বিপজ্জনক করে তুলবে। অন্যদিকে টমাহক আরও বেশি নেটওয়ার্কড ও ইন্টেলিজেন্ট হয়ে উঠছে।

শেষকথা বললে, ব্রহ্মোস যেন এক যুদ্ধবিমান – দ্রুত ও ধ্বংসাত্মক, আর টমাহক যেন এক স্নাইপার – নিঃশব্দ ও নির্ভুল। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এই দুটি মিসাইলই নিজেদের অপরিহার্য অস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে – আর ভবিষ্যতে এদের গুরুত্ব যে আরও বাড়বে, তা বলা বাহুল্য।

এই মুহূর্তে

৩৫ কোটি টাকা বিনিয়োগে IIT খড়গপুরে তৈরি হচ্ছে ভারতের প্রথম ফিজিক্যাল AI স্কুল!

৩০০ কিমি দূরে নিখুঁত আঘাত! ৩৭০ মিমি রকেট নিয়ে ভারতীয় সেনার হাতে আসছে Pinaka Mk4

এলন মাস্কের বড় ঘোষণা: স্পেসএক্স AI চিপসের জন্য পেল ৪০ বিলিয়ন ডলার, ‘নিওক্লাউড’দের জন্য খারাপ খবর!

মহাকাশে ইতিহাস গড়তে চলেছে Agnikul Cosmos: ২০২৭-এ রকেট বুস্টার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য