আগামী বছরে প্রথম ফ্লাইট টেস্ট, ২০২৭-এ উৎপাদন শুরু সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, BrahMos-NG

Feature T&L

ভারতের অত্যাধুনিক সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল প্রযুক্তিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে – BrahMos-NG (Next Generation) এর হাত ধরে। এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে উন্নয়নের শেষ ধাপে রয়েছে এবং আগামী ২০২৬ সালের মধ্যভাগে ফ্লাইট টেস্ট শুরু হওয়ার কথা। আর পুরো উৎপাদন পর্ব ২০২৭-২০২৮ সালের মধ্যে শুরু হবে বলে জানিয়েছে BrahMos Aerospace

এখানে উল্লেখযোগ্য যে, বর্তমানে BrahMos Aerospace-এর CEO Managing Director হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডঃ জয়তীর্থ আর. জোশী, যিনি ১ ডিসেম্বর ২০২৪-এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন অতুল দিনকর রানের পর।

প্রযুক্তিগত অগ্রগতি:

নতুন BrahMos-NG ক্ষেপণাস্ত্রটি আসল BrahMos থেকে অনেকটাই হালকা ও ছোট। যেখানে মূল মিসাইলের ওজন ছিল প্রায় ৩ টন এবং দৈর্ঘ্য ৯ মিটার, সেখানে BrahMos-NG এর ওজন ১.৩ থেকে ১.৬ টন এবং দৈর্ঘ্য মাত্র ৬ মিটার। তা সত্ত্বেও এটি আগের মতোই বিধ্বংসী ক্ষমতা বজায় রেখেছে।

এর সর্বোচ্চ গতি Mach 3.5, অর্থাৎ শব্দের চেয়ে সাড়ে তিন গুণ দ্রুত! আর রেঞ্জ প্রায় ২৯০ কিলোমিটার, যা ভবিষ্যতে বাড়িয়ে ৪৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত করা যেতে পারে।

আধুনিক বৈশিষ্ট্য:

  • Reduced Radar Cross Section (RCS) থাকায় শত্রুপক্ষের রাডারে ধরা পড়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম।
  • AESA (Active Electronically Scanned Array) রাডার যুক্ত দেশীয় সিকার সিস্টেম থাকায় টার্গেটিং অনেক নিখুঁত।
  • Submarine-Launched Cruise Missile (SLCM) ভ্যারিয়েন্টের জন্য এটি ৫৩৩ মিমি টর্পেডো টিউব থেকে লঞ্চ করার উপযোগী।

এই সাবমেরিন লঞ্চ ভ্যারিয়েন্ট ভারতের Project-75I সাবমেরিনগুলোর সঙ্গে সহজেই একাত্ম হতে পারবে।

প্ল্যাটফর্মের পরিসর:

নতুন মিসাইলটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারযোগ্য:

  • Sukhoi Su-30MKI: একসঙ্গে তিনটি BrahMos-NG বহনে সক্ষম।
  • LCA TejasDassault Rafale-এর জন্যও উপযুক্ত।
  • 8 X 8 গ্রাউন্ড লঞ্চ ভেহিকেল থেকে সহজে লঞ্চযোগ্য (যেখানে পুরনোটির জন্য ১২x১২ ভেহিকেল প্রয়োজন হতো)।

প্রথম ফ্লাইট টেস্টের আগেই বিশ্বের ডজনখানেক দেশ এই নতুন মিসাইল সিস্টেমে আগ্রহ দেখিয়েছে। ইতিমধ্যে Philippines-এ BrahMos রপ্তানির সাফল্যের পর ভারত এই নতুন BrahMos-NG নিয়েও Southeast AsiaMiddle East-এর অনেক দেশের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে।

BrahMos-NG শুধু ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করছে না, বরং দেশের ডিফেন্স এক্সপোর্ট ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্তের সূচনা করছে। এর সুপারসনিক গতি, প্রিসিশন গাইডেন্সবহুমুখী ব্যবহারযোগ্যতা একে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ক্রুজ মিসাইল হিসেবে গড়ে তুলেছে।

ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির পথে এ এক ঐতিহাসিক অগ্রগতি!

এই মুহূর্তে

নতুন GE F404 ইঞ্জিনে তেজস মার্ক ১এ উৎপাদন গতি পেল, কিন্তু IAF-এর অপেক্ষা আরও দীর্ঘ

পুঁতিনের ব্যক্তিগত বুলেটপ্রুফ দুর্গ: Aurus Senat লিমুজিন, যা তাঁর সঙ্গে পাড়ি দেয় বিশ্বের পথে

ভারত-মার্কিন যুগলবন্দী: সুরক্ষিত হচ্ছে সমুদ্রের তলদেশের কেবল, বিশ্ব ডিজিটাল হাবের পথে ভারত

লেনোভো গুগলবুক ১৫-এর স্পেকস ফাঁস: চড়া দামে আসছে নতুন ল্যাপটপ, ম্যাকবুককে টক্কর দেওয়ার প্রস্তুতি!