এবার লাইসেন্স ছাড়াই চালানো যাবে এই ১.৬ কোটি টাকার ফিউচারিস্টিক ‘উড়ন্ত গাড়ি’!

Pivotal flying car

কল্পনা করুন তো, আপনার গাড়িটা সকালে দিব্যি রাস্তা দিয়ে চলল, আর দুপুরের কড়া রোদে ট্রাফিক জ্যাম এড়াতে সেটা সোজা আকাশে উড়ে চলল! না, এটা কোনো সায়েন্স ফিকশন সিনেমা বা ছোটবেলার আঁকা ছবি নয়—এটা একদম ঘোর বাস্তব।

আমেরিকার এক স্টার্টআপ কোম্পানি পিভটাল (Pivotal) এবার এমনই এক উড়ন্ত গাড়ি (Flying Car) নিয়ে এসেছে, যার নাম দিয়েছে Pivotal eVTOL। আর এর দাম? ১.৬ কোটি টাকা! (মার্কিন ডলারে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ডলার)। কিন্তু সবচেয়ে চমকপ্রদ খবরটা হল, এই গাড়ি চালাতে বা ওড়াতে আপনার কোনো পাইলট লাইসেন্সেরই দরকার নেই!

এই ছোট্ট ‘আকাশের গাড়ি’ কীভাবে কাজ করে, তার গল্প শুনলে আপনার চোখ কপালে উঠতে বাধ্য।

উড়ন্ত বাইক, নাকি ছোট হেলিকপ্টার?

এই ফ্লাইং কারটিকে আসলে একটি সিঙ্গল-সিটের ‘আল্ট্রালাইট’ রিক্রিয়েশনাল ভেহিকল বলা হয়। সোজা বাংলায়, একা একা মজার জন্য চালানোর মতো অতি হালকা একটি যান। নিরাপত্তার সরঞ্জাম ছাড়া এর ওজন মাত্র ১১৫ কিলোগ্রাম। দেখলে মনে হবে একটা ছোট্ট, ঝকঝকে হেলিকপ্টার।

কিন্তু মজার ব্যাপার হল, এতে হেলিকপ্টারের মতো ইঞ্জিন নেই। এর শক্তি আসে মোট আটটি ইলেকট্রিক প্রপেলার থেকে। অর্থাৎ, এটি সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক গাড়ি।

এটি হেলিকপ্টারের মতোই লম্বালম্বিভাবে আকাশে ওড়ে এবং নামে। এই সিস্টেমকে প্রযুক্তিগত ভাষায় বলে ‘ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং’ বা ইভিটিওএল (eVTOL)। এর ফলে, এটি ওড়ার জন্য আর পাঁচটা বিমানের মতো লম্বা রানওয়ের দরকার হয় না—আপনার বাড়ির ছাদ বা ছোট লন থেকেও উড়তে পারবে। একবার আকাশে উঠে গেলে, এর বডিটা সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকে যায় এবং তখন এটি গাড়ির মতো সোজাসুজি, অর্থাৎ হরিজন্টাল ফ্লাইটে চলতে থাকে। এর সর্বোচ্চ গতি হল প্রতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার

চালানো আরও সহজ, যেন ভিডিও গেম!

এই যানটি নিয়ন্ত্রণ করাও দারুণ সহজ। এতে কেবল একটি জয়স্টিক (Joystick) আর একটি থাম্ব কন্ট্রোল (Thumb Control) আছে। এই দুটো দিয়েই সমস্ত কাজ করা যায়। সবচেয়ে সুবিধার বিষয় হল – টেক-অফ (ওড়া) এবং ল্যান্ডিং (নামা) পুরোটাই সফটওয়্যারের সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Automatically) হয়ে যায়।

গাড়িটি আকাশে ওড়ার সময় যাতে উল্টে না যায়, তার জন্য এতে আছে অত্যাধুনিক সেন্সর। এই সেন্সরগুলো বাতাসের চাপ, গাড়ির গতি এবং অবস্থান (Position) সব সময় নজরে রাখে। ফলে প্রচণ্ড হাওয়াতেও এটি বেশ স্থিতিশীল থাকে। সুরক্ষার দিকটাও মাথায় রাখা হয়েছে। এর ডিজাইন এমন যে, যদি কোনো কারণে আটটি প্রপেলারের মধ্যে একটি খারাপও হয়ে যায়, তাহলেও বাকিগুলো দিয়ে এটি দিব্যি উড়তে পারে। এই দারুণ বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় ‘রিডানড্যান্ট’ (Redundant) ডিজাইন।

তবে হ্যাঁ, কোম্পানি বলে দিয়েছে, গাড়িটি কেনার পর আপনাকে দুই সপ্তাহের একটি বিশেষ ট্রেনিং নিতে হবে, যেখানে সিমুলেটরে (Simulator) অনুশীলন করার সুযোগ পাবেন।

ব্যাটারি আর রেঞ্জ নিয়ে চিন্তা

কিন্তু সবকিছুরই যেমন ভালো দিক আছে, তেমনি কিছু সীমাবদ্ধতাও থাকে। এই ফ্লাইং কারটির প্রধান সমস্যা হল এর রেঞ্জ বা উড়ানের দূরত্ব। একবার পুরো চার্জ দিলে এটি মাত্র ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) পর্যন্ত উড়তে পারে। আর আকাশে থাকার সময় বা ফ্লাইট টাইম হল মোটে ২০ মিনিট

এর কারণ খুবই পরিষ্কার। গাড়িটিকে হালকা রাখার জন্য ব্যাটারির ক্ষমতা (Capacity) কম রাখা হয়েছে। আরও মজার ব্যাপার, ওজনের সীমা যাতে অতিক্রম না হয়, তাই এতে কোনো লাইটিং সিস্টেম (Light) বা কমিউনিকেশন রেডিও (যোগাযোগের যন্ত্র) পর্যন্ত দেওয়া হয়নি!

আমেরিকার FAA বা ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এই যানটিকে ‘আল্ট্রালাইট’ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ (Classify) করেছে, তাই লাইসেন্স ছাড়াই ওড়ানো যায়। তবে মনে রাখতে হবে, যেহেতু এটি বিনোদনের জন্য তৈরি, তাই শহর বা ভিড়-ভাট্টার ওপর দিয়ে উড়তে পারবেন না। এটিকে বাণিজ্যিকভাবে (Commercial) বা জরুরি পরিষেবার (Emergency Service) জন্য ব্যবহার করা যাবে না।

ভবিষ্যতের আরও বড় স্বপ্ন

এই পিভটাল মডেলটি আসলে একটি ‘প্রুফ-অফ-কনসেপ্ট’ (Proof-of-Concept), যার মাধ্যমে কোম্পানি বাজারে তাদের উড়ন্ত গাড়ির ক্ষমতা বোঝাতে চাইছে। তারা পরিকল্পনা করছে ভবিষ্যতে এর থেকেও বড় ভার্সন তৈরি করবে, যাতে ৩০০ মাইল রেঞ্জ এবং ৯০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ভার বহন করার ক্ষমতা থাকবে। এমনকি হাইব্রিড প্রপালশন (Hybrid Propulsion) মডেলও আনার চিন্তা চলছে, যা সম্ভবত সামরিক বা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে (Defence Logistics) ব্যবহার হতে পারে।

ভারতে এই উড়ন্ত গাড়ি কবে আসবে, তা এখনও বহু দূরের স্বপ্ন। তবে এই খবর শুনে আমাদের কলকাতার ট্রাফিক জ্যামের কথা মনে পড়ে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক।

এই মুহূর্তে

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬: বাঁশের বেড়া থেকে এআই প্রযুক্তি, অভূতপূর্ব সুরক্ষা

Project বিষ্ণুর ET-LDHCM হাইপারসনিক মিসাইল: ভারত Mach 8 গতির পথে

ভারতে ভিনফাস্ট VF MPV 7 লঞ্চ হল: দাম ২৪.৪৯ লক্ষ টাকা

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও মালদায় আইএসআই-এর জঙ্গি তৎপরতার আশঙ্কা, উত্তর-পূর্ব ভারতেও প্রভাব পড়তে পারে