টেক ডেস্কঃ নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এবং কনজিউমার রিপোর্টসের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা এক উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এনেছে: অনেক নতুন গাড়ি এবং তাদের অ্যাপ মালিকদের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা, যেমন গাড়ির VIN (ভেহিকেল আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার) এবং সঠিক অবস্থান, তৃতীয় পক্ষের বিভিন্ন কোম্পানির সাথে ব্যাপকভাবে ভাগ করে নিচ্ছে। এই ডেটা শেয়ারিং প্রায়শই গ্রাহকদের ধারণার বাইরে থাকে, যার ফলে তথ্য বিজ্ঞাপন সংস্থা, অ্যানালিটিক্স কোম্পানি এবং এমনকি অ্যাক্সিওমের মতো ডেটা ব্রোকারদের কাছে পৌঁছাচ্ছে।
২১টি আধুনিক গাড়ি এবং ৩০টি গাড়ির অ্যাপের উপর পরিচালিত এই তদন্তে দেখা গেছে, ১৯টি গাড়ি Wi-Fi এর মাধ্যমে ডেটা পাঠাচ্ছে, এবং সাতটি অ্যাপ গুরুত্বপূর্ণ শনাক্তকারী তথ্য বাইরের সংস্থার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। জেনারেল মোটরসের (GM) মাইক্যাডিলাক এবং মাইশেভ্রোলেটের মতো অ্যাপগুলি VIN সহ ডেটা একাধিক কোম্পানির কাছে পাঠানোর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। ফোনের বিজ্ঞাপন আইডির মতো নয়, একটি VIN স্থায়ী হয়, যা বিজ্ঞাপনদাতাদের গাড়ির মালিককে তাদের অনলাইন কার্যকলাপের সাথে যুক্ত করতে সাহায্য করে।
যেসব গাড়ি সরাসরি ডেটা শেয়ার করেনি, তাদের সংশ্লিষ্ট স্মার্টফোন অ্যাপগুলি প্রায়শই মালিকদের ডেটা প্রকাশ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, বুইক এনভিস্টা এবং নিসান আরিয়া গাড়ি থেকে সুরক্ষিত মনে হলেও, তাদের অ্যাপগুলির মাধ্যমে মালিকদের ডেটা ডজনখানেক বিজ্ঞাপন ও ট্র্যাকিং কোম্পানির কাছে উন্মুক্ত হয়েছে। গাড়ি নির্মাতারা সাধারণত ভেন্ডর চুক্তি এবং গোপনীয়তা নীতির কথা বলে এই চর্চাকে সমর্থন করে, যা খুব কম মালিকই সম্পূর্ণভাবে বোঝেন।
রিভিয়ান-এর মতো কোম্পানি ডেটা শেয়ারিং প্রত্যাখ্যান করলে “কার্যকারিতা হ্রাস” সম্পর্কে সতর্ক করে, এবং GM একটি FTC গোপনীয়তা আদেশের মুখোমুখি। এই পরিস্থিতিতে একমাত্র হোন্ডা প্রকাশ্যেই তাদের নীতি পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, অ্যাম্প্লিটিউডকে সংগৃহীত অবস্থান ডেটা মুছে ফেলতে বলেছে। বিশেষজ্ঞরা এখন সংযুক্ত গাড়ির যুগে গ্রাহকদের ডেটা সুরক্ষার জন্য আরও কঠোর নিয়ন্ত্রক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছেন।