ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের পরিবহন ব্যবস্থায় সবুজ বিপ্লবের সূচনা করল। ১৭ অক্টোবর ২০২৫-এ, সেনাবাহিনী ₹১৩০.৫৮ কোটি টাকার এক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে JBM Auto Ltd-এর সঙ্গে। এই চুক্তির মাধ্যমে সেনাবাহিনী কিনছে ১১৩টি ইলেকট্রিক বাস এবং ৪৩টি ফাস্ট চার্জার।
এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সেনা প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে ইলেকট্রিক মোবিলিটি বা বৈদ্যুতিক পরিবহনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি শুধু একটি কেনাকাটা নয়—এটি এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, যা দেখিয়ে দিচ্ছে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীও এখন পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির পথে হাঁটছে।
PM E-Drive Program-এর আওতায় বড় পরিবর্তন
এই প্রকল্পটি ভারত সরকারের “PM E-Drive Program”-এর অংশ, যার মূল লক্ষ্য হলো দেশজুড়ে জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন অবকাঠামো গড়ে তোলা। সরকারি ও কৌশলগত খাতে টেকসই পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহ দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতীয় সেনা তাদের যানবাহন বহরকে আধুনিক করছে, জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমাচ্ছে এবং কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামানোর জাতীয় লক্ষ্য পূরণে সরাসরি অবদান রাখছে।
“Buy (Indian–IDDM)” ক্যাটাগরিতে আত্মনির্ভর ভারতের অগ্রযাত্রা
এই ক্রয়টি হয়েছে “Buy (Indian–IDDM)” বিভাগে—অর্থাৎ সম্পূর্ণ দেশে ডিজাইন, ডেভেলপ ও ম্যানুফ্যাকচার করা পণ্য। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনী স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে তারা “আত্মনির্ভর ভারত” উদ্যোগের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে একাত্ম।
দেশের নিজস্ব শিল্প ও প্রযুক্তি শক্তিকে এগিয়ে নিতে এই পদক্ষেপ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এতে দেশীয় গাড়ি ও প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রেও নতুন উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি হবে।
তিন বাহিনীতে মোতায়েন হবে ইলেকট্রিক বাস
এই ইলেকট্রিক বাসগুলো কেবল সেনাবাহিনী নয়, বরং নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটিতেও ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ, দেশের তিন বাহিনীর মধ্যেই বৈদ্যুতিক পরিবহনের যুগ শুরু হতে চলেছে।
এটি কেবল কার্বন নিঃসরণ কমাবে না, বরং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও দীর্ঘমেয়াদি অপারেশনাল ব্যয় কমিয়ে আনবে। পাশাপাশি, এটি দেশের অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির কাছেও এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।
টেকসই আধুনিকায়নের পথে সেনাবাহিনী
এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতীয় সেনা এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করেছে—অপারেশনাল প্রস্তুতি বজায় রেখেও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা সম্ভব।
ইলেকট্রিক বাসগুলো যুক্ত হওয়ার ফলে শুধু পরিবেশই রক্ষা পাবে না, সেনাবাহিনীর লজিস্টিক ব্যবস্থাও হবে আরও কার্যকর ও আধুনিক।
এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা কেনাকাটার জন্য একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করল—যেখানে সাসটেইনেবিলিটি ও কর্মক্ষমতা একসঙ্গে এগিয়ে যাবে এক সবুজ, আত্মনির্ভর ভারতের পথে।