পেট্রোল ডিজেলকে গুডবাই! ভারতে এবার পণ্যবাহী ট্রাক চলবে হাইড্রোজেনে

Feature T&L

ভারতের পণ্যবাহী যানবাহন (Commercial Vehicle) শিল্প এখন এক ঐতিহাসিক রূপান্তরের মুখে। জামনগর থেকে লেহ, কিংবা দিল্লির ব্যস্ত রাস্তায় – প্রথমবারের মতো দেশের রাস্তায় দেখা মিলছে হাইড্রোজেন (Hydrogen) চালিত ট্রাক ও বাসেরAshok Leyland, Tata Motors, ও Daimler-এর মতো বড় সংস্থাগুলি এগিয়ে আসায় এই ‘সবুজ বিপ্লব’-এর গতি পাচ্ছে আরও।

Hydrogen: ভবিষ্যতের জ্বালানি

বর্তমানে হাইড্রোজেন প্রযুক্তি দুইভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে—H2-FCEV (Hydrogen Fuel Cell Electric Vehicle) এবং H2-ICE (Hydrogen Internal Combustion Engine)। H2-FCEV গাড়িগুলিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় বিদ্যুৎ তৈরি হয়, যা মোটর চালায়, এবং ফলাফল—শুধু জলীয় বাষ্প। অন্যদিকে, H2-ICE প্রযুক্তি চালিত ইঞ্জিনে হাইড্রোজেন ব্যবহৃত হয় জ্বালানিরূপে, যাতে Carbon Emission অনেক কম হয়।

Tata Motors: পথপ্রদর্শক

২০২৫ সালের মার্চ মাসে Tata Motors শুরু করেছে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রাক পরীক্ষা National Green Hydrogen Mission-এর আওতায়। মুম্বই, পুনে, দিল্লি-এনসিআর, সুরা, ভাদোদরা, জামশেদপুর, কলিঙ্গানগর-এর মতো শহরে চলছে ট্রায়াল। পরীক্ষাধীন ট্রাকগুলির মধ্যে রয়েছে Tata Prima H.55SH.28, যেগুলি H2-ICEH2-FCEV প্রযুক্তিতে তৈরি। এই ট্রাকগুলি একটানা ৩০০৫০০ কিমি চলতে পারে

নিতিন গড়কড়ি বলছেন, “Hydrogen হবে ভারতের ভবিষ্যতের জ্বালানি।” Tata Motors-এর Executive Director গিরিশ ওয়াঘ জানান, “এই ট্রায়াল এক বিশাল পদক্ষেপ ভরসা যোগ্য পথ চলায়।”

Ashok LeylandDaimler-এর ভূমিকা

Ashok Leyland ২০২৩-এ Reliance Industries-এর সঙ্গে যৌথভাবে ভারতের প্রথম H2-ICE ট্রাক চালু করে, যেটি ১৯–৩৫ টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন। এরপর ৪০০ কিমি চলার ক্ষমতাসম্পন্ন Hydrogen Fuel Cell Luxury Intercity Bus-ও লঞ্চ করেছে।
Daimler India Commercial Vehicles (DICV)-এর Managing Director সত্যকাম আর্য বলেছেন, “আগামী ৫-৭ বছরে CV শিল্পে বড়সড় বৃদ্ধি আসবে, আমরা তৈরি।”

সবুজ হাইড্রোজেন মিশন, লক্ষ্য ২০৩০

সরকারের National Green Hydrogen Mission, শুরু ২০২১, লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন। এর জন্য ₹19,744 কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে।
India H2 Alliance (IH2A)-এর নেতৃত্বে Reliance Industries, যারা ২৫টি Hydrogen Project ও ৫টি Hydrogen Hub তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে।

হাইড্রোজেন এখনও ব্যয়বহুল, রিফুয়েলিং স্টেশনের অভাব রয়েছে। তবে SECI (Solar Energy Corporation of India) রিনিউয়েবল উৎস থেকে হাইড্রোজেন সরবরাহের কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের আশা, ২০২৬ সালের মধ্যেই দেশের বাজারে হাইড্রোজেন ট্রাক বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া যাবে।

এই প্রযুক্তি শুধু পরিবেশ নয়, দেশের Energy IndependenceEmployment বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করবে।
Tata Motors, Ashok Leyland এবং Daimler-এর উদ্যম এবং সরকারের সহযোগিতা – সব মিলিয়ে Hydrogen Economy গড়ার লক্ষ্যে ভারত এখন সঠিক রাস্তায়।

এই মুহূর্তে

ইয়ান লেকান অ্যানথ্রোপিকের ৫০% চাকরি হারানোর পূর্বাভাস খারিজ করলেন মেটার প্রধান এআই বিজ্ঞানী

AI Chatbot আত্মহত্যা: চ্যাটবটের পরামর্শে ব্যক্তির মৃত্যু, উঠছে গুরুতর প্রশ্ন

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬: বাঁশের বেড়া থেকে এআই প্রযুক্তি, অভূতপূর্ব সুরক্ষা

Project বিষ্ণুর ET-LDHCM হাইপারসনিক মিসাইল: ভারত Mach 8 গতির পথে