লাগবে না পেট্রোল-ডিজেল, দিতে হবে না চার্জ! অদ্ভুদ এক গাড়ি নিয়ে সংসদে হাজির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

Prahllad Joshi with car

ভাবুন তো এমন একটা গাড়ি, যা পেট্রোল বা ডিজেলে চলে না, আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা চার্জ দেওয়ারও ঝামেলা নেই। অথচ সেই গাড়ি থেকেই সাইলেন্সার দিয়ে ধোঁয়ার বদলে বের হয় কেবল জলীয় বাষ্প! শুনতে কল্পবিজ্ঞান মনে হলেও, সকালে নয়াদিল্লির রাস্তায় ঠিক এমনটাই দেখা গেল। সবাইকে অবাক করে দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী আজ পার্লামেন্ট সেশনে পৌঁছালেন নীল রঙের একটি ঝকঝকে Toyota Mirai গাড়িতে চড়ে।

গাড়িটি দেখামাত্রই সবার চোখ কপালে। তবে এটি কোনো সাধারণ ভিন্টেজ বা স্পোর্টস কার নয়, এটি হলো ভারতের অটোমোবাইল জগতের ভবিষ্যৎ—একটি হাইড্রোজেন চালিত গাড়ি

হঠাৎ কেন এই বিশেষ গাড়ি?

মন্ত্রীর এই যাত্রার পেছনে রয়েছে একটি বড় কারণ। আজ Toyota Kirloskar Motor (TKM) এবং National Institute of Solar Energy (NISE)-এর মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বা MoU স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো ভারতের National Green Hydrogen Mission-কে আরও শক্তিশালী করা। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই Toyota তাদের এই অত্যাধুনিক Mirai গাড়িটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের জন্য NISE-এর হাতে তুলে দিয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, NISE এই গাড়ি নিয়ে কী করবে? তাদের বিশেষজ্ঞ টিম মূলত ভারতের রাস্তায় এবং আবহাওয়ায় এই গাড়িটি চালিয়ে পরীক্ষা করবে। আমাদের দেশের ভাঙাচোরা রাস্তা, তীব্র গরম বা হাড়কাঁপানো শীতে হাইড্রোজেন গাড়ি কতটা দক্ষ বা ফুয়েল এফিশিয়েন্ট’ হতে পারে—সেটাই গবেষণার মূল বিষয়।

মন্ত্রী কী বললেন?

এই বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী থেকে মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বলেন, “এটি ভারতের ক্লিন এনার্জি বা দূষণমুক্ত শক্তির লক্ষ্যের দিকে একটি বিশাল পদক্ষেপ। হাইড্রোজেনের এই শক্তি আমাদের পরিবেশকে শুধু বাঁচাবে না, বরং আরও সুন্দর করে তুলবে।” এই গাড়িটি আসলে একটি বার্তা—ভবিষ্যতে আর পেট্রোল পাম্পে লাইন দিতে হবে না, পরিবেশও থাকবে সতেজ।

Toyota Mirai: গাড়ির ইন্টেরিওর ও প্রযুক্তির জাদু

আসুন জেনে নিই, এই Toyota Mirai আসলে কী দিয়ে তৈরি এবং কেন একে ‘ম্যাজিকাল’ বলা হচ্ছে:

১. প্রযুক্তি: এটি একটি Hydrogen Fuel-Cell Electric Vehicle (FCEV)। সোজা কথায়, গাড়ির ভেতরে হাইড্রোজেন এবং বাতাস থেকে নেওয়া অক্সিজেন মিশে বিদ্যুৎ তৈরি করে, যা গাড়িটিকে চালায়। বর্জ্য হিসেবে বের হয় শুধুই জল! অর্থাৎ শূন্য দূষণ।

২. মাইলেজ ও রিফুয়েলিং: একবার ট্যাঙ্ক ফুল করলে এই গাড়ি প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত একটানা চলতে পারে। আর সবথেকে বড় সুবিধা হলো, ইলেকট্রিক গাড়ির মতো চার্জ দিতে সারা রাত অপেক্ষা করতে হয় না। মাত্র ৫ মিনিট-এরও কম সময়ে এর ট্যাঙ্ক রিফিল করা যায়।

৩. ক্ষমতা: গাড়িতে রয়েছে হাই-প্রেশার হাইড্রোজেন ট্যাঙ্ক, যাতে ৫.৬ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হাইড্রোজেন গ্যাস রাখা যায়। সাথে রয়েছে শক্তিশালী Lithium-ion Battery

৪. আরাম ও ফিচার: শুধু প্রযুক্তি নয়, আরামের দিক থেকেও এটি সেরা। এতে রয়েছে Multi-link Suspension এবং একটি উন্নত Advanced Air Purification System, যা আপনার জার্নিকে করে তোলে আরামদায়ক।

NISE-এর এই ট্রায়াল বা পরীক্ষা সফল হলে, আমরা হয়তো খুব শীঘ্রই ভারতের রাস্তায় আরও বেশি করে হাইড্রোজেন গাড়ি দেখতে পাব। তারা খতিয়ে দেখবে ফুয়েল এফিশিয়েন্সি, ড্রাইভিং রেঞ্জ এবং বিভিন্ন রাস্তায় চালানোর অভিজ্ঞতা। যদি সব ঠিক থাকে, তবে পেট্রোল বা ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে, দূষণমুক্ত এক নতুন ভারতের সকাল হয়তো আমরা খুব তাড়াতাড়ি দেখতে চলেছি। মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীর এই যাত্রা সেই স্বপ্নের দিকেই আমাদের এক ধাপ এগিয়ে দিল।

এই মুহূর্তে

৮০০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের পর মেটার বড় পদক্ষেপ: ৭০০০ কর্মীকে নতুন AI টিমের পুনর্গঠন

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভারতীয় অস্ত্রের নতুন পরিচয়: ‘আকাশ’ এখন ‘লুসান’, ‘পিনাকা’ ‘শান্ত’

আর্থিক জটিলতায় পাকিস্তানে J-10CE যুদ্ধবিমান সরবরাহ স্থগিত করল চীন

ভারতের মেগা রাফাল চুক্তি: ফ্রান্সকে LoR পাঠাল দিল্লি, ₹৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকায় ৯৪টি যুদ্ধবিমান তৈরি হবে ভারতেই