টেক ডেস্কঃ ওপেনএআই (OpenAI) সম্প্রতি বিজ্ঞান জগতে এক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, দাবি করেছে যে তাদের একটি অভ্যন্তরীণ এআই মডেল “জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা-র চেয়েও সক্ষম” ৯০ বছরের পুরনো এক মিলিয়ন ডলারের গণিত রহস্য সমাধান করেছে। এই রহস্যটি হলো ত্রিমাত্রিক নাভিয়ার-স্টোকস সমীকরণ (Navier-Stokes equations) সীমিত সময়ে এককতা (singularity) তৈরি করতে পারে কিনা, যা সাতটি মিলেনিয়াম প্রাইজ সমস্যার মধ্যে অন্যতম। ওপেনএআই জানিয়েছে, এই প্রমাণের জন্য প্রায় ১০,০০০ এজেন্ট সমান্তরালভাবে কাজ করেছে এবং ‘Lean’ প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করে এটি যাচাই করা হয়েছে।
তবে এই ঘোষণা নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ওপেনএআইয়ের ঘোষণার ঠিক আগে গণিতজ্ঞ ট্রিস্টান বাকমাস্টার এবং লেভেন্ট আলপোজো স্বাধীনভাবে একটি সম্পর্কিত ফলাফল প্রকাশ করেন। তাঁরাও কয়েক মাস ধরে এআই মডেল ব্যবহার করে এই সমস্যা নিয়ে কাজ করছিলেন। বাকমাস্টার গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন, অভিযোগ করেছেন যে ওপেনএআই হয়তো তাদের ‘Codex’ টুলে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত খসড়া অ্যাক্সেস করেছে এবং ওপেনএআইয়ের এক গবেষক আলপোজোকে অ্যানথ্রপিকের কর্মচারী হওয়ায় যৌথ গবেষণাপত্রের লেখকত্ব থেকে সরানোর জন্য চাপ দিয়েছিলেন। ওপেনএআই অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে যে তারা কোনো নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর ডেটা অ্যাক্সেস করেনি এবং আলোচনাগুলি প্রামাণ্য একাডেমিক নিয়ম মেনেই হয়েছে।
ফিল্ডস মেডেলিস্ট টেরেন্স তাও, যিনি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গণিতজ্ঞ, এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, এআই হয়তো গণিত ক্ষেত্রে একটি “চিলিং এফেক্ট” (chilling effect) তৈরি করতে পারে। তার আশঙ্কা, এআই শুধুমাত্র উত্তর তৈরি করছে, কিন্তু কেন একটি পদ্ধতি কাজ করে তার প্রয়োজনীয় অন্তর্দৃষ্টি দিচ্ছে না। এই অন্তর্দৃষ্টিই প্রায়শই ক্ষেত্রের অগ্রগতির জন্য উত্তরের চেয়ে বেশি মূল্যবান। তাও আরও উল্লেখ করেছেন যে এআই কোম্পানিগুলো তাদের ব্যর্থ প্রচেষ্টাগুলো খুব কমই প্রকাশ করে, যা ভবিষ্যতের গবেষণায় বাধা দিতে পারে এবং গণিতজ্ঞদের অসম্পূর্ণ কাজ ভাগ করে নিতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। এআই এবং মৌলিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সংযোগস্থলে উদ্ভূত জটিল চ্যালেঞ্জ এবং নৈতিক দ্বিধাগুলো এই ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।