Meta এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র দুনিয়ায় এক নতুন ধামাকা আনল। তারা লঞ্চ করল একটি একেবারে আলাদা অ্যাপ – Meta AI, যা সম্পূর্ণভাবে একটি ব্যক্তিগত ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ AI অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য তৈরি। সরাসরি ChatGPT-র মতো জনপ্রিয় চ্যাটবটের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এটি বাজারে এল। এই Meta AI অ্যাপ আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে, রিকমেন্ডেশন দিতে ও দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করতে পারে।
কী করতে পারে Meta AI?
এই অ্যাপের মূল উদ্দেশ্য হলো – আপনার সঙ্গে এমনভাবে কথা বলা যেন আপনি কোনো বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছেন। আপনি Meta-র যেসব প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন, যেমন প্রোফাইলের ডিটেলস বা আপনি যেসব কনটেন্টে ইন্টারঅ্যাক্ট করেন, সেগুলোর তথ্য ব্যবহার করেই AI আপনাকে আরও প্রাসঙ্গিক উত্তর দেবে।
মানুষের মতো ‘ভয়েস’-এ কথা বলবে AI!
এই অ্যাপে অন্যতম আকর্ষণ হল ভয়েস ইন্টারঅ্যাকশন। আপনি সরাসরি Meta AI-কে কথা বলে প্রশ্ন করতে পারেন, যেমন আপনি কোনো বন্ধুকে কিছু জিজ্ঞেস করছেন। এর মধ্যে রয়েছে নতুন full-duplex speech technology-র ডেমো, যা এমনভাবে প্রশিক্ষণে দেওয়া হয়েছে যেন AI সরাসরি কথোপকথনের মতো ভয়েস তৈরি করে, কোনও টেক্সট পড়ে নয়। যদিও এই AI এখনো রিয়েল-টাইম ওয়েব তথ্য ব্যবহার করতে পারে না, তবুও ভবিষ্যতের AI প্রযুক্তির একটা ঝলক এতে মিলছে।
এই ভয়েস ফিচার এখন শুধুমাত্র US, Canada, Australia ও New Zealand-এ চালু হয়েছে।
আরও কী থাকছে?
Meta AI অ্যাপে রয়েছে একটি Discover feed, যেখানে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ইন্টারেস্টিং প্রশ্ন দেখে অনুপ্রাণিত হতে পারেন, অন্যরা AI কীভাবে ব্যবহার করছেন সেটা জানতে পারেন এবং নিজের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করতে পারেন।
চ্যাটের মধ্যেই ইমেজ জেনারেশন ও এডিট করার ফিচারও রয়েছে। মানে আপনি AI-এর সাহায্যে ছবি তৈরি বা এডিটিং করতে পারবেন, আলাদা অ্যাপ ছাড়াই।
অন্য Meta ডিভাইসেও কাজ করবে অ্যাপ
যাঁরা Ray-Ban Meta গ্লাস ব্যবহার করেন, তাঁরা এবার স্মার্টগ্লাস আর অ্যাপের মধ্যে অনায়াসে সুইচ করতে পারবেন, একই চ্যাট কন্টিনিউ করে। একদম স্মার্ট, হ্যান্ডস-ফ্রি এক্সপেরিয়েন্স!
Desktop ভার্সানেও Meta AI-তে যুক্ত হয়েছে ভয়েস সাপোর্ট, Discover ফিড এবং উন্নত ইমেজ জেনারেশন ফিচার। এছাড়াও চলছে একটি document editor-এর টেস্ট, যা দিয়ে ইউজাররা PDF তৈরি করে এক্সপোর্ট করতে পারবেন।
Meta AI অ্যাপ এক নতুন যুগের সূচনা করেছে, যেখানে AI শুধু মেশিন নয় – সে একজন ভার্চুয়াল বন্ধু। ভয়েস ইন্টারঅ্যাকশন, ইমেজ টুল, স্মার্ট রিকমেন্ডেশন – সব মিলিয়ে এই অ্যাপ আমাদের ডিজিটাল জীবন আরও সহজ, মজাদার এবং ইন্টারঅ্যাক্টিভ করে তুলবে। এখন অপেক্ষা, কবে এই অ্যাপ ভারতে চালু হয়!