Google-এর প্যারেন্ট সংস্থা Alphabet-এর অধীনস্থ আইসোমরফিক ল্যাবস এখন বিশ্ববাসীকে চমকে দিতে প্রস্তুত। একদা গোপনে কাজ চললেও, এখন সামনে এসেছে তাদের অত্যাধুনিক AI অ্যালগরিদম-নির্ভর ক্যানসারের ওষুধ তৈরির প্রকল্প। এই ওষুধগুলো একদমই AI দ্বারা ডিজাইন করা, আর এগুলোর মানব শরীরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে।
২০২১ সালে Google DeepMind থেকে আলাদা হয়ে তৈরি হয় আইসোমরফিক ল্যাবস, যা গঠিত হয়েছিল AlphaFold নামক এক যুগান্তকারী AI সিস্টেমের ভিত্তিতে। এই AlphaFold বিজ্ঞানীদের হতবাক করে দিয়েছিল প্রোটিনের 3D স্ট্রাকচার নিখুঁতভাবে পূর্বাভাস দিয়ে। এখন তার উন্নত ভার্সন AlphaFold 3-এর মাধ্যমে প্রোটিন কীভাবে DNA, RNA ও ড্রাগ মলিকিউল-এর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে, তা সহজেই মডেল করা যাচ্ছে। অর্থাৎ ওষুধ তৈরির বেশিরভাগ ধাপ এখন ল্যাবরেটরিতে যাওয়ার আগেই কম্পিউটারে বোঝা যাচ্ছে।
সাধারণত একটি নতুন ওষুধ বাজারে আনতে ১০ বছর ও কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। সেখানে এই AI-ভিত্তিক পদ্ধতি অনেকটাই সাশ্রয়ী ও দ্রুত কাজ হবে বলে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা।
সম্প্রতি Fortune-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইসোমরফিক ল্যাবস-এর প্রেসিডেন্ট কলিন মারডক জানিয়েছেন, “আমরা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের খুব কাছাকাছি। লন্ডনের কিংস ক্রসে আমাদের অফিসে এখনই AI-এর সাহায্যে ক্যানসারের ওষুধ ডিজাইন হচ্ছে।”
AI এর সাথে ফার্মাসিউটিক্যাল বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা মিশিয়ে কাজ করছে এই সংস্থা। শুধু নিজেদের তৈরি ওষুধ নয়, তারা Novartis ও Eli Lilly-র মতো বহুজাতিক ফার্মা সংস্থার সাথেও বহু-বছরের গবেষণা অংশীদারিত্বে নেমেছে। ২০২৪ সালে এই দুই সংস্থার সঙ্গে অফিসিয়াল চুক্তি হয়।
এই বছরের এপ্রিলে আইসোমরফিক ল্যাবস পেয়েছে $600 মিলিয়ন বিনিয়োগ, যার নেতৃত্বে ছিল থ্রাইভ ক্যাপিটাল। এই টাকা মূলত ক্যানসার ও তার রোগপ্রতিরোধ সংক্রান্ত (Oncology & Immunology) ওষুধ উন্নয়নের জন্য ব্যবহার হচ্ছে।
মারডক -এর কথায়, “আমরা এমন এক world-class drug design engine বানাতে চাই, যা ওষুধ প্রস্তুতকারীদের জন্য খরচ কমাবে, সময় বাঁচাবে এবং সফলতার হার অনেকটা বাড়াবে।”
তবে প্রশ্নও উঠছে অনেক—AI যদি নিজেই ওষুধ তৈরি করে, তাহলে সেই ওষুধের স্বত্বাধিকার কার? যদি কোনো ভুল হয়, দায় কার?—ডেভেলপার, সংস্থা না AI নিজে? আর সেই ওষুধ সবার নাগালে থাকবে তো, নাকি পেটেন্ট আর লাইসেন্সের দেয়ালে আটকে যাবে?
AI-এর Black Box সমস্যা—যেখানে ফলাফল পাওয়া গেলেও বোঝা যায় না কীভাবে এল—এটি চিকিৎসা ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। কারণ এখানে বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিয়ন্ত্রন স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবুও একটা কথা স্পষ্ট—এটা শুধু Alphabet-এর নয়, গোটা ফার্মাসিউটিক্যাল দুনিয়ার জন্য এক বিশাল মাইলফলক। আইসোমরফিক ল্যাবস যদি সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ওষুধ তৈরি ও চিকিৎসার চেহারাই বদলে যেতে পারে।
তবে শুধু AI-র সক্ষমতাই নয়, বিশ্বজুড়ে মানুষের মনোভাব, আইনগত জটিলতা ও নৈতিকতা ঠিক করবে এই নতুন যুগের ভবিষ্যৎ।