চিত্রটা খুব সাধারণ মনে হতে পারে—একটি কল্পনার জঙ্গলে নিজের একটি এনিমে স্টাইল সেলফি, চোখে বিস্ময়, চারপাশে জোনাকি আর ভাসমান দ্বীপ। আপনি সেটি পোস্ট করেন, লাইক পড়তে থাকে, হাসি ফুটে ওঠে মুখে। কিন্তু সেই মিষ্টি ছবির আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক বিশাল প্রযুক্তিগত ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ।
২০২৫ সালের মার্চে, OpenAI-এর CEO Sam Altman টুইটারে লেখেন, “ChatGPT-তে মানুষ ছবি বানাতে ভালোবাসছে, কিন্তু আমাদের GPU গুলো গলে যাচ্ছে!” কারণ? Studio Ghibli স্টাইলের ছবি তৈরির হিড়িক।
AI ছবি মানেই বিশাল কম্পিউটেশন
একটি সাধারণ AI-generated ছবি তৈরি করতে লাগে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন FLOPs, যেখানে একটি সাধারণ টেক্সট জেনারেশনে লাগে মাত্র ১০০ বিলিয়ন FLOPs। অর্থাৎ, একটি ছবি তৈরির জন্য ১০ গুণ বেশি কম্পিউটেশন দরকার। আর সেই কাজ করে শক্তিশালী GPU গুলো, যেগুলো প্রতিটি ৭০০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ করে।
Stanford ও Hugging Face-এর গবেষণা অনুযায়ী, একটি ছবি তৈরি করতে লাগে প্রায় ৩.২৫ ওয়াট-আওয়ার বিদ্যুৎ, যা দিয়ে ৬০ ওয়াটের বাল্ব প্রায় ৩.২৫ মিনিট জ্বলে বা একটি স্মার্টফোন ৫০% চার্জ হয়।
‘Ghibli’-র জাদু কেন এত ভয়াবহ ছিল?
এই ট্রেন্ডটি শুধু সুন্দর নয়, ছিল অত্যন্ত নস্টালজিক এবং সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল। মানুষ শুধু নিজেদের ছবি নয়, পোষ্য, পরিবার, এমনকি রাজনীতিবিদদের ছবিও এই ফিল্টারে বানিয়ে ফেলছিল।
এইভাবে কোটি কোটি ছবি তৈরি হতে থাকে, এবং এর ফলে চাপ পড়ে যায় বিশ্বব্যাপী ডেটা সেন্টারে, যেগুলো প্রচুর বিদ্যুৎ ও জল খরচ করে ঠাণ্ডা রাখতে।
উপায় কী?
OpenAI ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান চেষ্টা করছে আরও দক্ষ GPU ও অপ্টিমাইজড মডেল বানাতে। তবে প্রযুক্তিগত সমাধানের পাশাপাশি সচেতন ব্যবহারের দিকেও নজর দিতে হবে।
আপনার AI ছবি তৈরি করার সময় যদি ছোট্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়—এই ছবির জন্য খরচ হল এতটা বিদ্যুৎ, তাহলে হয়তো আমরা আরও দায়িত্বশীল হব।
শেষ কথা
AI-generated Ghibli ছবিগুলো যতই সুন্দর হোক, এগুলো তৈরি করতে লাগে বাস্তব জ্বালানি ও শক্তি। আমাদের কল্পনার ছবি হোক, কিন্তু ব্যবহারে থাকুক বাস্তবের ছাপ।