আমরা সবাই স্বপ্ন দেখি। কিন্তু কেমন হবে যদি আপনি ঘুমের ঘোরে বুঝতে পারেন যে আপনি স্বপ্ন দেখছেন, আর নিজের ইচ্ছেমতো সেই স্বপ্নকে চালাতে বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন? হলিউডের সায়েন্স ফিকশন সিনেমার মতো লাগছে, তাই না? কিন্তু এই অসম্ভবকে সম্ভব করার দাবি নিয়ে এসেছে Prophetic AI নামের একটি উদ্ভাবনী টেক স্টার্টআপ। তারা এমন এক প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে, যা শুনলে সত্যিই চোখ কপালে উঠবে!
Prophetic AI বাজারে এনেছে দুটি নতুন ওয়্যারেবল ডিভাইস— Prophetic Dual এবং Prophetic Phase। এগুলো দেখতে অনেকটা হেডব্যান্ডের মতো, যা ঘুমানোর সময় মাথায় পরতে হয়। এই ডিভাইসগুলোতে ইইজি (EEG) সেন্সর এবং ট্রান্সক্র্যানিয়াল ফোকাসড আল্ট্রাসাউন্ড (Transcranial Focused Ultrasound) এর মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
কীভাবে কাজ করে এই ম্যাজিক ডিভাইস?
বিজ্ঞানটা একটু সহজ করে বুঝিয়ে বলি। সাধারণত ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্কের ফ্রন্টোপ্যারিয়েটাল নেটওয়ার্ক (Frontoparietal Network) নিষ্ক্রিয় বা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে। ঠিক এই কারণেই আমরা ঘুমের ঘোরে বুঝতে পারি না যে আমরা স্বপ্ন দেখছি।
এই ডিভাইসটি ঠিক এখানেই কাজ করে। এটি নিরাপদ আল্ট্রাসোনিক তরঙ্গের মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সে (Prefrontal Cortex) শক্তি পাঠায় এবং ওই ঘুমন্ত নেটওয়ার্ককে জাগিয়ে তোলে। এর ফলেই শুরু হয় লুসিড ড্রিমিং (Lucid Dreaming)—অর্থাৎ আপনি স্বপ্নের ভেতরেই সচেতন হয়ে যাবেন যে আপনি স্বপ্ন দেখছেন। এরপর আপনি সেই জাদুকরী দুনিয়াকে নিজের ইচ্ছেমতো সাজাতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এআই (AI) প্রযুক্তি এখানে সাহায্য করে মস্তিষ্কের কার্যকলাপ বুঝতে এবং স্বপ্নের স্পষ্টতা বা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়াতে। কোম্পানির দাবি, এটি সাধারণ মানুষের স্বপ্ন দেখার অভিজ্ঞতাই পুরোপুরি বদলে দেবে।
দাম কত এবং কবে পাওয়া যাবে?
নতুন এই প্রযুক্তির স্বাদ পেতে পকেট থেকে বেশ ভালোই খরচ করতে হবে:
- Prophetic Dual: এর দাম রাখা হয়েছে 449 ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় 42,000 থেকে 43,200 টাকার কাছাকাছি)। চলতি বছরের শেষের দিকেই এর ডেলিভারি শুরু হবে।
- Prophetic Phase: এটি আরও উন্নত বা প্রিমিয়াম মডেল। এর দাম 1,299 ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় 1,22,000 টাকা)। এর ডেলিভারি শুরু হবে 2027 সালের মাঝামাঝি সময়ে।
দুটো ডিভাইসই তারের সাহায্যে সংযুক্ত থাকে এবং খুব সহজেই সাধারণ হেডব্যান্ডের মতো মাথায় পরা যায়।
বিজ্ঞানীদের মত ও ভবিষ্যৎ
এই খবর সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়া ও টেক দুনিয়ায় দারুণ উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই ভাবছেন, এর মাধ্যমে সৃজনশীলতা বাড়ানো, নতুন কোনো দক্ষতা ঘুমের মধ্যেই অনুশীলন করা বা নিছক মজার স্বপ্ন তৈরি করা সম্ভব হবে।
তবে, বিজ্ঞানীরা এখনও একটু সতর্ক। এই ডিভাইস মস্তিষ্কের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কতটা নিরাপদ বা এটি সত্যিই সব মানুষের ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ করবে কি না, তা নিয়ে এখনও বিজ্ঞানীদের মধ্যে পুরোপুরি নিশ্চয়তা নেই। এটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হওয়ার আগে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
তবু একটা কথা জোর দিয়ে বলাই যায়, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা AI এবং প্রযুক্তি যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে হয়তো খুব শিগগিরই আমাদের ঘুমের দুনিয়াটাও আর আগের মতো থাকবে না!