টেক ডেস্কঃ অ্যাপলের নতুন ফোল্ডেবল আইফোন ডুও (iPhone Duo) ভারতে লঞ্চ হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা দামে, যা আমেরিকার বাজার মূল্যের চেয়ে ১.১০ লাখ টাকারও বেশি। এই বিপুল iPhone Duo price gap India এখন গ্রাহক এবং বিশ্লেষকদের মধ্যে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে, যা এই গুরুত্বপূর্ণ বাজারে অ্যাপলের ব্র্যান্ড আনুগত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। শুধু ডুও নয়, আইফোন ১৮ প্রো এবং প্রো ম্যাক্সের মতো নতুন মডেলগুলির ক্ষেত্রেও দামের এই বিশাল ফারাক স্পষ্ট।
শিল্প বিশেষজ্ঞরা এই দামের ফারাকের পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করেছেন। ভারতের ১৮% জিএসটি (Goods and Services Tax), এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি না হওয়া পণ্যগুলির উপর ১৭-১৮% আমদানি শুল্ক (import duties) এই অতিরিক্ত খরচের মূল কারণ। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার দুর্বল অবস্থান, যা আরও ৫-৬% খরচ বাড়িয়ে দেয়। ফলস্বরূপ, প্রাথমিকভাবে ভারতে যে আইফোন ডুও বিক্রি হবে, তা “মেড ইন ইন্ডিয়া” না হওয়ায় এই সকল শুল্কের সম্পূর্ণ বোঝা বহন করতে হবে, যা দামকে অনেক বেশি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
কেবলমাত্র নতুন মডেল নয়, আইফোন ১৬ এবং ১৭-এর মতো পুরনো মডেলগুলির দামও অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়েছে। এর প্রধান কারণ হল বিশ্বব্যাপী মেমরি চিপের (memory chip) চলমান সংকট, যা নির্মাতাদের জন্য উৎপাদন খরচ সামলানো কঠিন করে তুলেছে। অ্যাপলের প্রাক্তন সিইও টিম কুক আগেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে যন্ত্রাংশের ক্রমবর্ধমান দামের কারণে মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য। এই বাস্তবতা এখন ভারতীয় গ্রাহকদের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
এই চড়া দামের কারণে ক্রেতারা বিদেশের বাজার থেকে ফোন কেনার দিকে ঝুঁকতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, বছরওয়ারি ভিত্তিতে বিদেশ থেকে ফোন কেনার চাহিদা দ্বিগুণ হতে পারে। যদিও অ্যাপলের প্রিমিয়াম সেগমেন্টের গ্রাহকরা প্রো মডেলের জন্য ২০-৩০ হাজার টাকার দাম বৃদ্ধি হয়তো সহ্য করবেন, তবে অনেকেই কেনা পিছিয়ে দেবেন, অফারের জন্য অপেক্ষা করবেন, অথবা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সস্তা ফোন কেনার চেষ্টা করবেন, যা সামগ্রিক বিক্রির পরিমাণকে প্রভাবিত করতে পারে।