টেক ডেস্কঃ ভারতীয় সেনার জন্য সম্পূর্ণ দেশীয় AK-203 ‘শের’ (শের মানে বাঘ) অ্যাসল্ট রাইফেলের কঠোর ব্যবহারিক পরীক্ষা এই মাসেই শুরু হচ্ছে। দেশের পদাতিক বাহিনীর আধুনিকীকরণে এটি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ, কারণ এই নতুন অস্ত্রটি দীর্ঘদিনের পুরনো এবং ত্রুটিপূর্ণ ইনসাস (INSAS) রাইফেলকে প্রতিস্থাপন করতে চলেছে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত ইনসাস তার কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচিত।
উত্তর প্রদেশের আমেঠির কোরওয়া অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিতে সম্পূর্ণ দেশীয় উপাদান দিয়ে তৈরি এই ‘শের’ রাইফেল ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রতিরক্ষা উৎপাদন উদ্যোগের এক বড় সাফল্য। ১৯৯০-এর দশকে গৃহীত ইনসাস রাইফেল ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় তীব্র ঠাণ্ডায় ম্যাগাজিন ফেটে যাওয়া এবং জ্যাম হওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছিল, যা একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্পের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিল। রুশ সংস্থা রোসোবোরোনেক্সপোর্ট এবং কালাশনিকভ কনসার্নের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে গঠিত এই প্রকল্পে ৫০টি প্রধান এবং ১৮০টি উপ-উপাদানের সম্পূর্ণ স্থানীয়করণ সম্পন্ন হয়েছে।
৩.৬ কেজি থেকে ৩.৮ কেজি ওজনের AK-203 রাইফেলটি ইনসাসের চেয়ে হালকা। এটি শক্তিশালী ৭.৬২x৩৯মিমি ক্যালিবারের এবং এর কার্যকর পাল্লা ৮০০ মিটার পর্যন্ত। সম্পূর্ণ দেশীয় উৎপাদন শুধু ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সাপ্লাই চেনকে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে রক্ষা করবে না, বরং ভবিষ্যতে সামরিক রপ্তানি এবং দেশীয় পুলিশ বাহিনীর আধুনিকীকরণের পথও খুলে দেবে। ৫,২০০ কোটি টাকার চুক্তির অধীনে, ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ৬,০১,০০০টিরও বেশি ‘শের’ রাইফেল সরবরাহ করা হবে, যা দেশের প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতাকে আরও গতি দেবে।