টেক ডেস্কঃ পাক-চিন থেকে আসা সম্ভাব্য যৌথ সাঁজোয়া হামলা রুখতে ভারতের মার্কিন ‘জ্যাভলিন’ (Javelin) ক্ষেপণাস্ত্র কেনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এমনটাই মনে করছেন ভারতীয় সামরিক বিশেষজ্ঞরা। এই চুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রের অভাব পূরণে সাহায্য করবে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এই চুক্তির কথা নিশ্চিত করেছেন এবং ভবিষ্যতে সহ-উৎপাদনের সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন, যা দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।
অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল পি.কে. সেহগাল-এর মতো প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত স্পষ্টভাবে দু’দিক থেকে আসা হুমকির বিষয়টি বোঝে। পাকিস্তান এবং চীন উভয়েরই উল্লেখযোগ্য ট্যাঙ্ক ক্ষমতা রয়েছে, তাই জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্রের এই চুক্তি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধক। এই উন্নত, মাঝারি পাল্লার, ‘ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট’ (Fire-and-Forget) অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রটি আধুনিক যুদ্ধে এর কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে, বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে। এটি সাঁজোয়া যান এবং সুরক্ষিত অবস্থানসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার প্রফুল বক্সী আধুনিক যুদ্ধে ট্যাঙ্ক যুদ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন, যা ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইউক্রেন ও ইরাকের সাম্প্রতিক সংঘাতগুলিতেও দেখা গেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, লকহিড মার্টিন এবং আরটিএক্স (RTX) দ্বারা যৌথভাবে তৈরি এই বহনযোগ্য অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্রটি কার্যকরভাবে শত্রুর ট্যাঙ্ক ধ্বংস করার জন্য অপরিহার্য। এর ‘ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট’ ক্ষমতা সৈন্যদেরকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরেই নিরাপদ অবস্থানে সরে যেতে দেয়, যা তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়। ভারতের বিশাল এবং জটিল সীমান্ত জুড়ে যুদ্ধ প্রস্তুতি বাড়াতে এই কৌশলগত পদক্ষেপ অত্যন্ত সহায়ক হবে।