টেক ডেস্কঃ ভারত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) দ্রুত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রাফাল যুদ্ধবিমানের বহরের মালিক হতে চলেছে, যেখানে তাদের সম্মিলিত জেট সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। এই বিপুল সংখ্যক বিমানের রক্ষণাবেক্ষণে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে খরচ কমানো ও সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর এক অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটি আঞ্চলিক সামরিক শক্তিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
ঐতিহাসিকভাবে, রাফাল বিমানের বড় ধরনের মেরামতির জন্য সেগুলিকে ফ্রান্সে পাঠাতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। কিন্তু এখন, ভারত মহাসাগর ও উপসাগরীয় অঞ্চলে এত বেশি রাফাল জেট থাকায়, স্থানীয় মেরামত কেন্দ্র স্থাপন করা অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে অপরিহার্য। হায়দ্রাবাদ এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে, যেখানে ২০২৬ সালের মধ্যে সাফ্রান এয়ারক্রাফট ইঞ্জিন M88 ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র খুলবে এবং ডাসো অ্যাভিয়েশন টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড (TASL)-এর সাথে রাফাল ফিউসেলেজ অংশ তৈরি করবে।
এই স্থানীয় নেটওয়ার্কের ফলে বিশেষত UAE-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ মেরামতির কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে। ইঞ্জিন এবং বিমানের কাঠামো ছাড়াও, MBDA MICA এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলের রক্ষণাবেক্ষণেও সহযোগিতা করবে, যা আঞ্চলিক আত্মনির্ভরশীলতা বাড়াবে। এই সম্প্রসারণের ফলে অর্থনীতির মাপকাঠি অনুযায়ী খরচ কমবে এবং ভারতের উদীয়মান বিমান উৎপাদন শিল্প (যেমন তেজস Mk2, AMCA) আরও শক্তিশালী হবে।
ভারত ও UAE-এর মধ্যে শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারিত্ব, যা যৌথ সামরিক মহড়ার মাধ্যমে প্রমাণিত, এই সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে। একই ধরনের রাফাল বিমান থাকায় যৌথ পাইলট প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী বিনিময় এবং কৌশলগত পরিকল্পনা সহজ হবে। ডাসো অ্যাভিয়েশনের পারফরম্যান্স-বেসড লজিস্টিক্স (PBL) চুক্তির দিকে প্রবণতার সাথেও এই আঞ্চলিক হাব অপরিহার্য।
যদিও ভারতের আরও ১১৪টি রাফাল কেনার চুক্তি এবং নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে এই যৌথ রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র মেরামত খরচ কমাবে, বিমানের প্রস্তুতি বাড়াবে, আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করবে এবং নতুন দিল্লি ও আবু ধাবির মধ্যে কৌশলগত বন্ধুত্বকে আরও গভীর করবে।