টেক ডেস্কঃ ভারতীয় নৌবাহিনী তাদের সমুদ্রসীমার ক্ষমতাকে নতুন করে সাজিয়ে তুলছে। এখন আর শুধু ব্রহ্মস (BrahMos) ক্ষেপণাস্ত্রের উপর নির্ভর না করে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (IOR) নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে তারা একটি বহুমুখী, ‘Indian Navy Layered Naval Firepower’ কৌশল গ্রহণ করেছে। ব্রহ্মস তার নিজস্ব ক্ষেত্রে অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও, এর আকার ও উচ্চ মূল্যের কারণে সব পরিস্থিতিতে এটি ব্যবহার করা সম্ভব নয়।
এই নতুন কৌশলের মূল স্তম্ভ হল ব্রহ্মস-এনজি (BrahMos-NG), নেভাল অ্যান্টি-শিপ মিসাইল-মিডিয়াম রেঞ্জ (NASM-MR) এবং ভবিষ্যতের গ্লাইডফায়ার (Glidefire) ক্ষেপণাস্ত্র। ব্রহ্মস-এনজি একটি হালকা ও ছোট আকারের সুপারসনিক বিকল্প, যা LCA তেজসের মতো ছোট বিমান থেকেও উৎক্ষেপণ করা যাবে। অন্যদিকে, NASM-MR, যা মার্কিন হারপুনের মতো কাজ করে, মাঝারি পাল্লার সাবসনিক হামলা চালানোর জন্য তৈরি। এটি যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এবং এর পাল্লা প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার।
গ্লাইডফায়ার প্রকল্পটি, যদিও NASM-MR বা ব্রহ্মস-এনজি-এর মতো জরুরি নয়, তবে এটি একটি সাশ্রয়ী ও মাঝারি পাল্লার কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ছোট জাহাজ থেকে সাধারণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য এটি উপযুক্ত, যেখানে ব্রহ্মসের মতো উচ্চ-প্রান্তের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা যুক্তিযুক্ত নয়। এই স্তরিত অস্ত্রাগার ‘ডিস্ট্রিবিউটেড লেথালিটি’র (Distributed Lethality) নীতিকে তুলে ধরে, যা নৌ কমান্ডারদের প্রতিটি হুমকির জন্য সঠিক অস্ত্র বেছে নিতে সাহায্য করে এবং মূল্যবান সম্পদ নষ্ট হওয়া আটকায়। এই সুসংহত কৌশল ভারতের সমুদ্র সুরক্ষাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকেও মজবুত করছে।