টেক ডেস্কঃ ইন্দোনেশিয়ার কাছে ভারত ৬৩০ মিলিয়ন ডলারের এক ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে, যা বিশ্ব অস্ত্র বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ইন্দোনেশিয়ার রাশিয়ান-নির্মিত Su-30 এবং Su-27 যুদ্ধবিমান বহরের জন্য ভারতীয় Astra Mk1 ক্ষেপণাস্ত্র রফতানি করা হবে। এটি রাশিয়ার দীর্ঘদিনের একাধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, তবুও মস্কো আশ্চর্যজনকভাবে নীরব।
ঐতিহাসিকভাবে, যে দেশগুলি সুখোই যুদ্ধবিমান কিনত, তাদের রাশিয়ার তৈরি অস্ত্রশস্ত্র এবং রক্ষণাবেক্ষণের ওপরই নির্ভর করতে হত। কিন্তু Astra Mk1, যা ঘণ্টায় ৪.৫ ম্যাক গতিতে ১১০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম, তা এখন একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার অস্ত্র উৎপাদনে যে বিলম্ব হচ্ছে, ভারতের এই ক্ষেপণাস্ত্র রফতানি সেই সমস্যা এড়াতে সহায়তা করবে। ফলে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি ছাড়াই রাশিয়ান যুদ্ধবিমান আপগ্রেড করতে ইচ্ছুক দেশগুলির কাছে ভারত একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হয়ে উঠছে।
এই চুক্তি ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রমাণ। অতীতে রাশিয়া তাদের যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তিগত বিবরণ অত্যন্ত গোপন রাখত, কিন্তু হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) বিদেশী ক্রেতাদের জন্য সুখোই বিমানে স্বাধীনভাবে উন্নত অস্ত্র যুক্ত করার ক্ষমতা প্রমাণ করেছে। এটি সুখোই বিমান পরিবর্তনের একমাত্র কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাশিয়ার অবস্থানকে দুর্বল করছে।
তবে রাশিয়ার এই নীরবতাকে শুধু সম্মতি ভাবলে ভুল হবে। বাস্তবসম্মত দৃষ্টিকোণ থেকে, রাশিয়ান-নকশার জেটগুলি সচল রাখা, এমনকি ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে হলেও, ইঞ্জিন, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং বড় মেরামতের মাধ্যমে রাশিয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদী রাজস্ব নিশ্চিত করবে। ভারত যখন একটি প্রধান ক্রেতা থেকে বিশ্বব্যাপী প্রতিরক্ষা রফতানিকারক হিসেবে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে, তখন Astra Mk1 রফতানি এক নতুন যুগের প্রতীক, যেখানে ভারত উচ্চ-প্রযুক্তির আপগ্রেড সরবরাহ করে প্রতিযোগিতামূলক এবং নিষেধাজ্ঞার জর্জরিত বিশ্বে রাশিয়ান প্ল্যাটফর্মগুলির আয়ু বাড়াচ্ছে।