টেক ডেস্কঃ ভারতের স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধ সক্ষমতায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। সম্প্রতি দিল্লি জুড়ে তাশি নেটওয়ার্ক (Tashi Network) এবং ড্রোনভার্স (DroneVerse) সফলভাবে অত্যাধুনিক ড্রোন স্বার্ম ট্রায়াল (drone swarm trials) সম্পন্ন করেছে। এই যুগান্তকারী পরীক্ষাগুলি প্রমাণ করেছে যে, জ্যামিং, নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নতা বা ব্যাটারির স্বল্পতা সত্ত্বেও ড্রোনগুলি নিজস্ব বুদ্ধিমত্তায় কাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম। এটি ভারতের বিকেন্দ্রীভূত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দিকে এক বিশাল পদক্ষেপ।
৭২ ঘণ্টার এই বিশদ মূল্যায়নে ২০,০০০ বর্গমিটারের একটি কাল্পনিক বিতর্কিত এলাকা সুরক্ষিত করতে একাধিক স্বয়ংক্রিয় কৌশলগত ড্রোন দল মোতায়েন করা হয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণভাবে, ড্রোনগুলি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে তাদের স্থিতিস্থাপকতা প্রমাণ করেছে। এর মধ্যে ছিল একটি সমন্বিত ‘ফাইন্ড-ফিক্স-ফিনিশ’ মিশন এবং একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, যেখানে ব্যাটারি কম হলে একটি ড্রোন ঘাঁটিতে ফিরলে বাকি ড্রোনগুলি বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ ভাগ করে নিয়েছিল।
তাশি নেটওয়ার্কের সিইও অমর বেদি এই উদ্ভাবনের মূল দিকটি তুলে ধরেছেন: একটি বিকেন্দ্রীভূত মেশ আর্কিটেকচার, যেখানে প্রতিটি ড্রোন একে অপরের সমান অংশীদার হিসেবে কাজ করে। প্রচলিত ব্যবস্থার মতো কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রকের উপর নির্ভরশীল না হয়ে, এই ‘এজ-নেটিভ’ (edge-native) সিস্টেম নিশ্চিত করে যে মিশন নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। মানুষ কেবল উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে, কিন্তু মেশিনগুলি মিলি-সেকেন্ডের মধ্যে কাজ সমন্বয় করে। এটি রিমোট-কন্ট্রোলড ফ্লিট থেকে সত্যিকারের ‘চিন্তাশীল স্বার্ম’-এর দিকে এক পরিবর্তন।
দিল্লির এই ড্রোন স্বার্ম ট্রায়াল বিশ্বের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে দেশগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে গণ, নেটওয়ার্কযুক্ত মনুষ্যবিহীন সিস্টেমে বিনিয়োগ করছে। ভারতের জন্য, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং দ্রুত অভিযোজনযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দেশীয় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য অপরিহার্য হবে।