DRDO-র নতুন মাস্টারস্ট্রোক: ড্রোনের ঝাঁক এবার হবে আকাশের ‘ভাসমান অ্যান্টেনা’! পাল্টে যাবে যুদ্ধের সমীকরণ

DRDO Drone Technology

ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চলেছে DRDO (ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন)। তারা এমন এক অসাধারণ প্রজেক্টে হাত দিয়েছে, যা শুনলে আপনি গর্বিত হবেন। কল্পনা করুন, আকাশে একসঙ্গে উড়ছে একঝাঁক ড্রোন, আর তারা কেবল উড়ছেই না—বরং সবাই মিলে তৈরি করছে এক বিশাল অদৃশ্য জালের মতো অ্যান্টেনা!

এই প্রযুক্তির নাম দেওয়া হয়েছে ‘Floating Antenna Array’। এটি মূলত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা বৈদ্যুতিক যুদ্ধ কৌশলের জন্য তৈরি হচ্ছে, যা শত্রুর রাডার জ্যাম করা থেকে শুরু করে গোপন সিগন্যাল ধরতে আমাদের সেনাকে সাহায্য করবে।

প্রযুক্তিটি আসলে কী?

এই প্রজেক্টটি DRDO-র Technology Development Fund (TDF) স্কিমের আওতায় তৈরি হচ্ছে। এর মূল মন্ত্র হলো ‘Close Formation Flying’। সহজ কথায়, অনেকগুলো ছোট ছোট ড্রোন একে অপরের খুব কাছাকাছি উড়ে একটা বড় দলের মতো কাজ করবে।

আগে বড় কোনো অ্যান্টেনা বা রাডারের জন্য বিশাল বিমানের দরকার হতো। কিন্তু এই প্রযুক্তিতে প্রতিটি ড্রোনের গায়েই থাকবে ছোট Transmitter বা Receiver। যখন এই ড্রোনগুলো একসঙ্গে ওড়ে, তখন তারা সবাই মিলে একটি ‘ভার্চুয়াল অ্যান্টেনা’ বা Distributed Phased Array তৈরি করে। এর ফলে খরচ যেমন কমবে, তেমনই বিশাল বড় বিমানের আর দরকার হবে না।

সবচেয়ে বড় সুবিধা কী?

১. রূপবদল ক্ষমতা: এই ড্রোন সিস্টেমের সবচেয়ে মজার দিক হলো, এরা রিয়েল-টাইমে নিজেদের আকার বা ফরমেশন বদলাতে পারে। অর্থাৎ, অপারেশন বা মিশনের চাহিদা অনুযায়ী অ্যান্টেনার বিমের প্রস্থ বা দিক পরিবর্তন করা যাবে নিমেষেই।

২. শত্রুর চোখে ধুলো: একে বলা হচ্ছে Asymmetric Warfare-এর জন্য মোক্ষম অস্ত্র। যদি যুদ্ধের ময়দানে শত্রুপক্ষ এই ঝাঁকের মধ্যে থেকে একটা বা দুটো ড্রোন নষ্টও করে দেয়, তবুও পুরো সিস্টেম বন্ধ হবে না। বাকি ড্রোনগুলো নিজেদের জায়গা বদল করে (Reconfigure) আবার কাজ চালিয়ে যাবে।

৩. নজরদারি ও গোয়েন্দাগিরি: এই প্রযুক্তি Electronic Intelligence (ELINT) মিশন এবং বর্ডার নজরদারিতে বিপ্লব আনবে।

চ্যালেঞ্জ ও সমাধান

অবশ্য কাজটা সহজ নয়। ড্রোনগুলোকে একে অপরের থেকে কয়েক Meter দূরত্বে উড়তে হবে, কিন্তু তাদের অবস্থানের নির্ভুলতা হতে হবে সেন্টিমিটার লেভেলের! এমনকি যদি GPS বা ভারতের নিজস্ব NavIC স্যাটেলাইট সিস্টেম কাজ না-ও করে, তবুও এদের উড়তে হবে নিখুঁতভাবে।

এছাড়া শত্রুপক্ষ যদি সিগন্যাল জ্যাম করার চেষ্টা করে? তার জন্যও ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এতে ব্যবহার করা হবে Electronic Counter-Countermeasures (ECCM) প্রযুক্তি, যা ড্রোনদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা অটুট রাখবে।

আত্মনির্ভর ভারতের জয়জয়কার

DRDO একা নয়, এই যজ্ঞে সামিল করা হচ্ছে ভারতের বিভিন্ন MSME এবং Defence Start-up গুলিকে। উদ্দেশ্য একটাই—দ্রুত প্রোটোটাইপ তৈরি করা এবং প্রযুক্তিতে দেশীয় স্টার্টআপদের সুযোগ দেওয়া। এই পুরো সোয়ার্ম লজিক এবং সেন্সিং প্রযুক্তি হবে ১০০% দেশীয়, যা আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আমাদের সেনাবাহিনীকে আরও স্মার্ট, ক্ষিপ্র এবং অপ্রতিরোধ্য করে তুলবে। ভারতের আকাশে এই ‘ভাসমান অ্যান্টেনা’ যে শত্রুর বুকে কাঁপন ধরাবে, তা বলাই বাহুল্য!

এই মুহূর্তে

ইয়ান লেকান অ্যানথ্রোপিকের ৫০% চাকরি হারানোর পূর্বাভাস খারিজ করলেন মেটার প্রধান এআই বিজ্ঞানী

AI Chatbot আত্মহত্যা: চ্যাটবটের পরামর্শে ব্যক্তির মৃত্যু, উঠছে গুরুতর প্রশ্ন

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬: বাঁশের বেড়া থেকে এআই প্রযুক্তি, অভূতপূর্ব সুরক্ষা

Project বিষ্ণুর ET-LDHCM হাইপারসনিক মিসাইল: ভারত Mach 8 গতির পথে