প্রযুক্তির বাজারে এখন সত্যিই এক অদ্ভুত সময় চলছে! একদিকে Google, অন্যদিকে OpenAI—সবাই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার দৌড়ে ব্যস্ত। আর এবার সেই দৌড়ে নতুন চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন Mark Zuckerberg। Meta কোম্পানি এমন এক আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) মডেল নিয়ে কাজ করছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘Mango’ (ম্যাঙ্গো)।
শুনতে ফলের নাম মনে হলেও, কাজের দিক থেকে এটি কিন্তু মোটেও সাধারণ নয়। 2026 সালের প্রথম অর্ধেকেই এটি লঞ্চ হতে চলেছে এবং সরাসরি লড়াইয়ে নামবে Google-এর Gemini Nano (যাকে অনেকে Banana কোডনেমে ডাকছেন)-এর সাথে।
কিউ অ্যান্ড এ সেশনে ফাঁস হলো গোপন তথ্য
সম্প্রতি Washington Journal-এর একটি রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। Meta-র চিফ AI অফিসার আলেকজান্ডার ওয়াং এবং চিফ প্রোডাক্ট অফিসার ক্রিস কক্স একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে (Q&A session) এই নতুন মডেলগুলোর কথা স্বীকার করেছেন। শুধু তাই নয়, Meta ইদানীং অন্যান্য বড় বড় কোম্পানি থেকে সেরা ট্যালেন্টেড ইঞ্জিনিয়ারদের নিজেদের দলে টানছে, যা টেক ইন্ডাস্ট্রিতে বেশ হইচই ফেলে দিয়েছে।
‘Mango’ এবং ‘Avocado’- জোড়া আক্রমণ!
জানা গেছে, Meta একই সময়ে দুটি ভিন্ন মডেল লঞ্চ করার পরিকল্পনা করছে: ১. Mango (ম্যাঙ্গো): এটি মূলত ছবি এবং ভিডিওর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ২. Avocado (অ্যাভোকাডো): এটি একটি টেক্সট-বেসড মডেল, যা লেখার কাজ বা চ্যাটিংয়ের জন্য তৈরি।
‘Mango’ কেন এত স্পেশাল?
Mango কি শুধুই একটা সাধারণ ইমেজ জেনারেটর? একদম না! এটি ভিজ্যুয়াল ডেটা বা দৃশ্যমান তথ্য বিশ্লেষণ করে আমাদের বাস্তব জগতকে আরও নিখুঁতভাবে বুঝতে পারবে। এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে এর ‘টেক্সট-টু-ভিডিও’ ফিচার।
কল্পনা করুন, আপনি শুধু টাইপ করে লিখে দিলেন আপনার কী ধরনের ভিডিও চাই, আর Mango নিমেষেই একটি দুর্দান্ত ভিডিও তৈরি করে দিল! এটি সরাসরি OpenAI-এর Sora এবং Google-এর Gemini Nano Banana-র মতো শক্তিশালী মডেলগুলোর সাথে পাল্লা দেবে।
ফ্রি নাকি নিতে হবে সাবস্ক্রিপশন?
এতদিন Meta তাদের Llama মডেলের মাধ্যমে ওপেন-সোর্স AI-এর দুনিয়ায় রাজত্ব করেছে। কিন্তু Mango-র ক্ষেত্রে তারা হয়তো সেই রাস্তা বন্ধ করবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, Meta এবার ‘ক্লোজড মডেল’ বা পেইড সার্ভিসের দিকে ঝুঁকছে। অর্থাৎ, এই অ্যাডভান্সড ফিচারগুলো ব্যবহার করতে আপনাকে হয়তো টাকা খরচ করতে হবে, আর ফ্রি অ্যাক্সেস থাকলেও তা হবে খুবই সীমিত।
রাস্তাটা কিন্তু Meta-র জন্য খুব একটা সহজ হবে না। তাদের লড়াই করতে হবে OpenAI, Google এবং Perplexity-র মতো কোম্পানির সাথে। তবে 2026 সালে এই ‘আম’ বা Mango পেকে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছালে প্রযুক্তির জগতে কী বিপ্লব ঘটে, সেটাই এখন দেখার বিষয়!