আজকের দিনে স্মার্টফোন ছাড়া আমাদের এক মুহূর্তও চলে না। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে ঘুমানো পর্যন্ত—চোখ সব সময় সেই উজ্জ্বল স্ক্রিনের দিকে। এর ফল? চোখ জ্বালা, মাথা ধরা আর ঘুমের সমস্যা। আমরা অনেকেই চাই এমন একটা ফোন, যা আমাদের কাজও করে দেবে আবার চোখের বারোটাও বাজাবে না। ঠিক এই স্বপ্ন পূরণ করতেই বাজারে এল Bigme Hibreak Pro।
যারা ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ বা সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত নেশা থেকে বাঁচতে চাইছেন, তাদের জন্য এই ই-ইঙ্ক (E-ink) স্মার্টফোনটি যেন এক জাদুকরী সমাধান। কেন এই ফোনটি নিয়ে এত আলোচনা? চলুন বিস্তারিত জেনে নিই।
স্ক্রিন যেন কাগজের পাতা!
এই ফোনের সবচেয়ে বড় চমক হলো এর ডিসপ্লে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে 6.13 inch-এর ই-পেপার ডিসপ্লে। সাধারণ ফোনের মতো এতে কোনো নীল আলো (Blue Light) নেই এবং স্ক্রিন ফ্লিকার বা কাঁপে না। ফলে আপনি যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই পড়েন বা নিউজ দেখেন, চোখের ওপর কোনো চাপ পড়বে না। মনে হবে আপনি কাগজের বই পড়ছেন!
এর দুটি ভার্সন আছে—সাদা-কালো এবং রঙিন। রঙিন বা কালার ভার্সনে Kaleido 3 প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা দিয়ে ছবি বেশ ভালোই দেখা যায়। তবে চোখের স্বাস্থ্যের জন্য সাদা-কালো ভার্সনটিই বেশি জনপ্রিয়। এর 300 PPI (পিক্সেল পার ইঞ্চি) রেজোলিউশনের কারণে লেখাগুলো একদম ঝকঝকে দেখায়। এছাড়া এতে ওয়ার্ম এবং কোল্ড লাইট অপশন আছে, যাতে রাতেও আপনি আরাম করে পড়তে পারেন।
ভিতরে পুরোদস্তুর স্মার্টফোন
ই-পেপার ডিসপ্লে দেখে ভাববেন না এটা শুধু বই পড়ার যন্ত্র বা কিন্ডল। এটা একটা শক্তিশালী অ্যান্ড্রয়েড ফোন!
- অপারেটিং সিস্টেম: এটি চলে লেটেস্ট Android 14-এ। এতে Google Play Store আছে, তাই আপনি হোয়াটসঅ্যাপ, মেইল বা অন্য যেকোনো অ্যাপ ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন।
- পাওয়ার ও মেমোরি: ফোনের হৃদপিণ্ড হিসেবে আছে MediaTek Dimensity 1080 প্রসেসর। মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য আছে 8GB RAM এবং 256GB Storage। হাজার হাজার ই-বুক, অডিওবুক বা গান স্টোর করতে কোনো চিন্তাই নেই।
- কানেক্টিভিটি: এতে 5G সাপোর্ট, ডুয়াল সিম স্লট, GPS এবং Bluetooth 5.2—সবই আছে।
ক্যামেরা ও ব্যাটারি
ই-ইঙ্ক ফোন হলেও এতে ক্যামেরার কমতি নেই। পিছনে রয়েছে 20 Megapixel-এর মেইন ক্যামেরা এবং সামনে 5 Megapixel-এর সেলফি ক্যামেরা। ডকুমেন্ট স্ক্যান বা টুকটাক ছবির জন্য এটি যথেষ্ট।
আর ব্যাটারি? এখানেই আসল ম্যাজিক! এতে রয়েছে 4500mAh ব্যাটারি। যেহেতু ই-ইঙ্ক স্ক্রিন খুব কম পাওয়ার খায়, তাই একবার চার্জ দিলে সাধারণ ব্যবহারে এটি অনায়াসেই কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। সাথে আছে 18W ফাস্ট চার্জিং সুবিধা।
কিছু সীমাবদ্ধতা ও ব্যবহারকারীদের মতামত
সব কিছুরই ভালো-মন্দ দিক থাকে। রিভিউতে দেখা গেছে, ই-ইঙ্ক প্রযুক্তির কারণে এর রিফ্রেশ রেট সাধারণ ফোনের চেয়ে কম। তাই ইউটিউব বা নেটফ্লিক্সে ভিডিও দেখার জন্য এই ফোন খুব একটা সুবিধাজনক নয়। অনেকে মজা করে একে ‘ডাম্ব ফোন’ (Dumb Phone) বলছেন, যা আসলে পজিটিভ অর্থেই বলা হচ্ছে। কারণ, এটি আপনাকে রিলস বা ভিডিওর নেশা থেকে দূরে রাখে।
একজন ব্যবহারকারী তার অভিজ্ঞতায় বলেছেন, “এই ফোনটি ব্যবহার করে আমার অহেতুক ফোন চেক করার রোগ কমেছে, বরং এখন আমি অনেক বেশি বই পড়ছি।” তবে মনে রাখবেন, কিছু ক্ষেত্রে NFC পেমেন্ট বা আইআর (IR) রিমোট ফিচার ঠিকঠাক কাজ নাও করতে পারে।
দাম এবং কোথায় পাবেন?
এই ফোনটি আপনার পকেটের ওপর খুব একটা চাপ দেবে না, আবার খুব সস্তাও নয়। এর ব্ল্যাক-অ্যান্ড-হোয়াইট ভার্সনটির দাম শুরু হচ্ছে $399 (ডলার) থেকে। কালার ভার্সনটির দাম একটু বেশি। ভারতে এটি কিনতে চাইলে আপনাকে Bigme-র অফিসিয়াল অনলাইন স্টোর বা Amazon চেক করতে হবে।
আপনি যদি এমন কেউ হন যিনি চোখের যত্ন নিতে চান, ঘন ঘন ফোন চার্জ দেওয়ার ঝামেলা এড়াতে চান এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কোলাহল থেকে একটু শান্তিতে থাকতে চান—তবে Bigme Hibreak Pro আপনার সেরা বন্ধু হতে পারে।