ভারতীয় টেক স্টার্টআপের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য খুব একটা সুখবর নেই। যদিও গত বছরের তুলনায় এই বছর ছাঁটাইয়ের সংখ্যা কমেছে, তবুও উদ্বেগজনকভাবে তা এখনও উচ্চ মাত্রায় রয়ে গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত মোট ২৫টি কোম্পানিতে ৪,২৮২ জন কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। সংখ্যাটি ২০২৩ সালের ১৪,৯৭৮ জন ছাঁটাইয়ের (যেটি হয়েছিল ১০৮টি কোম্পানিতে) তুলনায় অনেকটাই কম। কিন্তু বিশ্বজুড়ে ছাঁটাইয়ের তালিকায় ভারত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, যার আগে রয়েছে শুধু আমেরিকা।
কেন এত ছাঁটাই? কাদের ওপর কোপ বেশি?
২০২২ এবং ২০২৩ সালে টেক স্টার্টআপগুলি আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়েছিল। গ্লোবাল ফান্ডিং বা বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ভারত সহ বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার কর্মীকে চাকরি হারাতে হয়েছে। যদিও ২০২৪ সাল থেকে ছাঁটাই কমতে শুরু করেছে, কিন্তু তা এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
এই বছর ছাঁটাইয়ের কোপ সবচেয়ে বেশি পড়েছে ইলেকট্রিক মোবিলিটি এবং অনলাইন গেমিং কোম্পানিগুলির ওপর। এই সংস্থাগুলি সম্ভবত অতি-আশাবাদী হয়ে কর্মী নিয়োগ করেছিল। এখন তারা ব্যবসার বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে পেরে কর্মী সংখ্যা কমাচ্ছে।
বৈশ্বিক চিত্র: ভারত কেন দ্বিতীয়?
বিশ্বব্যাপী ছাঁটাইয়ের চিত্রে আমেরিকা সবার চেয়ে এগিয়ে। অক্টোবর মাস পর্যন্ত সেখানে ৭৬,৯০৭ জন কর্মচারী ছাঁটাই হয়েছেন, যা কিনা মোট ছাঁটাইয়ের ৮৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, ভারত ৫ শতাংশ ছাঁটাই নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। ভারতের পরে রয়েছে সুইডেন (৩.৩ শতাংশ) এবং কানাডা (২.৪ শতাংশ)। জার্মানি, ইসরায়েল এবং নেদারল্যান্ডস-এর মতো দেশগুলিতে ছাঁটাইয়ের পরিমাণ ১-২ শতাংশ।
ভারতে কোন কোম্পানিগুলি বেশি ছাঁটাই করেছে?
ভারতে যে কোম্পানিগুলি সবচেয়ে বেশি ছাঁটাই করেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে:
- ওলা ইলেকট্রিক: বেঙ্গালুরুতে ১,০০০ জন।
- গেমস ২৪x৭: মুম্বাইতে ৫৮০ জন।
- হেড ডিজিটাল ওয়ার্কস: হায়দরাবাদে ৫০০ জন।
- ভার্স ইনোভেশন: বেঙ্গালুরুতে ৩৫০ জন।
- ওটিপি: নয়াদিল্লিতে ৩০০ জন (যারা তাদের অপারেশন পুরোপুরি বন্ধ করেছে)।
তবে উল্লেখ্য, আগের বছরগুলিতে এডুটেক (যেমন: বাইজুস) এবং কুইক কমার্স কোম্পানিগুলিতে ছাঁটাইয়ের হার ছিল সবচেয়ে বেশি।
বেঙ্গালুরুতে অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই!
ছাঁটাইয়ের ঘটনা ভারতের কোন শহরে সবচেয়ে বেশি ঘটেছে, তার একটি পরিষ্কার চিত্র রয়েছে।
- বেঙ্গালুরু: মোট ছাঁটাইয়ের ৫২ শতাংশ বা ২,২৪৭ জন এই শহরের। এটি ভারতের ইউনিকর্ন এবং বড় টেক কোম্পানিগুলির প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় ছাঁটাইয়ের হার এখানে স্বাভাবিকভাবেই বেশি।
- মুম্বাই: ১৩.৫ শতাংশ।
- নয়াদিল্লি: ১২.৫ শতাংশ।
- হায়দরাবাদ: ১১.৭ শতাংশ।
- গুরুগ্রাম: ৭.৫ শতাংশ।
- নয়ডা: ২.৩ শতাংশ।
ভবিষ্যতের কী?
এই ছাঁটাইয়ের প্রধান কারণ হল কোম্পানিগুলির অপারেশন স্ট্রিমলাইন করা, অর্থাৎ অপ্রয়োজনীয় খরচ ও কাজ কমিয়ে আনা। তারা এখন লাভের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে এবং মহামারীর সময় যে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল, তার পুনর্মূল্যায়ন করছে।
যদিও ছাঁটাইয়ের সংখ্যা কমেছে, এটি এখনও ভারতীয় টেক ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলি তুলে ধরে। তবে আশা করা যায়, ভবিষ্যতে যদি ফান্ডিং বা বিনিয়োগের পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক বাজারের অবস্থা আরও উন্নত হয়, তবে এই ছাঁটাইয়ের সংখ্যা আরও কমবে। কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা কমাতে সরকারের দ্রুত নজর দেওয়া প্রয়োজন।