জাতিসংঘে শেহবাজ শরিফের ভাষণ থামাল দলেরই সমর্থকের স্লোগান, ‘জোকার’ বলে কটাক্ষ নেটা-নাগরিকদের

UNGA

পাকিস্তানের জন্য এক অস্বস্তিকর ও অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী হলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (UNGA)। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যখন লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে দর্শক গ্যালারি থেকে ভেসে এলো একটি রাজনৈতিক স্লোগান – “লং লিভ শেহবাজ শরিফ”। স্লোগানটি শোনা মাত্রই পুরো হলঘরে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি ঘটান শরিফের নিজের দল পিএমএল-এন (PML-N)–এর এক সমর্থক। জাতিসংঘের কঠোর নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে কেবল হাততালি, নীরব প্রতিবাদ বা ওয়াকআউটের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানানো যায়। কোনো অবস্থাতেই স্লোগান দেওয়া বা শোরগোল করার অনুমতি নেই। সেই নিয়ম ভঙ্গ হওয়ায় বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে ওঠে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রশ্ন

জাতিসংঘের নিরাপত্তা কর্মীরা ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে, কীভাবে ওই ব্যক্তি কড়া তল্লাশি ও যাচাই প্রক্রিয়া এড়িয়ে গ্যালারিতে প্রবেশ করতে সক্ষম হলো। বিশ্বের অন্যতম উচ্চ-নিরাপত্তার কূটনৈতিক মঞ্চে এমন ঘটনা বড় ধরনের প্রক্রিয়াগত ব্যর্থতা হিসেবেই ধরা হচ্ছে।

শরিফের ভাষণের মূল বিষয় আড়ালে

অবাক করার মতো ব্যাপার হলো, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তাঁর ভাষণে ভারতবিরোধী বক্তব্যকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন। তিনি কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে সমালোচনা করেন এবং পাকিস্তানের কথিত (কিন্তু বাস্তবে ভুয়া) “অপারেশন সিনদুর”–এর সাফল্যের দাবি করেন। অথচ শেষমেশ তাঁর পুরো বক্তৃতাই চাপা পড়ে যায় সমর্থকের দেওয়া স্লোগানের আড়ালে।

সংকটের সময়েই বাড়তি লজ্জা

এই ঘটনাটি ঘটলো এমন এক সময়ে, যখন পাকিস্তান গুরুতর অর্থনৈতিক সংকট, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বৈশ্বিক সন্দেহ এবং ভারতের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্কের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার মুখে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অঘটন শুধু পাকিস্তানকেই বিব্রত করেনি, বরং বিশ্বমঞ্চে তাদের নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া এখনো আসতে শুরু করেছে। তবে ইতিমধ্যেই ঘটনাটি পাকিস্তানের জন্য এক “কূটনৈতিক বিব্রতকর মুহূর্ত” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, অভ্যন্তরীণ দলীয় রাজনীতি কি এখন জাতিসংঘের মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মেও ছড়িয়ে পড়ছে?

জাতিসংঘের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনেক প্রশ্নই উত্তরহীন রয়ে গেছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—শেহবাজ শরিফের ভাষণের চেয়ে তাঁর দলের সমর্থকের দেওয়া স্লোগানই বিশ্বরাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নিয়েছে।

এই মুহূর্তে

Vivo S2 Pro-এর বদলে আসছে Vivo S2 FE, চমক S-সিরিজে!

পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য দুঃসংবাদ: বন্ধ হচ্ছে YouTube অ্যাপ!

অ্যামাজনে Samsung Galaxy S25 সিরিজের দামে বিরাট পতন: ₹৩৮,০০০ সাশ্রয়ের সুযোগ!

ইউপিআই পেমেন্টে আসছে বড় পরিবর্তন: এবার ফোন নম্বর গোপন রাখবে এনপিসিআই, বাড়বে গোপনীয়তা