সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একজোট ভারত-জাপান! মোদি-ইশিবা জোটে নতুন সমীকরণ বিশ্ব রাজনীতিতে

India-Japan treaty

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একজোট ভারত ও জাপান! ১৫তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে দুই দেশের দুই প্রধানমন্ত্রী  নরেন্দ্র মোদি এবং শিগেরু ইশিবা সন্ত্রাস দমনে একজোট হয়ে কাজ করার বার্তা দিলেন। এই বৈঠকে, জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও-এ যে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়েছিল, তার তীব্র নিন্দা করা হয়।

দুই রাষ্ট্রনেতাই এই জঘন্য কাজের তীব্র নিন্দা করেন এবং বলেন, যারা এই ধরনের হামলার পেছনে রয়েছে, তাদের দ্রুত শাস্তি হওয়া উচিত। তারা স্পষ্টভাবে লশকর-ই-তৈয়বা (LeT), জইশ-ই-মহম্মদ (JeM), আল কায়দা, আইএসআইএস/দায়েশ-এর মতো রাষ্ট্রসংঘ-তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠন এবং তাদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াই করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

এই প্রসঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী মোদি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মনিটরিং টিমের জুলাই ২৯-এর রিপোর্টটি তুলে ধরেন। সেই রিপোর্টে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)-এর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, এবং এই সংগঠনটিই পহেলগাঁও হামলার দায় স্বীকার করেছিল। এই তথ্য শুনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উভয় রাস্ট্রনেতাই সন্ত্রাসবাদের অর্থ জোগানোর পথ বন্ধ করার, জঙ্গিদের সীমান্ত পারাপার বন্ধ করার এবং তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলো ভেঙে দেওয়ার ওপর জোড় দিয়েছেন।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের সহযোগিতা আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি, এই সহযোগিতা এবার আফ্রিকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। দুই নেতা একটি নতুন উদ্যোগের সূচনা করেন, যার নাম ‘জাপান-ভারত কোঅপারেশন ইনিশিয়েটিভ ফর সাস্টেনেবল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট ইন আফ্রিকা’। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ভারত, জাপান ও আফ্রিকার বাজারগুলিকে সংযুক্ত করে একটি নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কেন্দ্র গড়ে তোলা।

বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার প্রসঙ্গে, দুই প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেন-এ একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির পক্ষে তাদের অবস্থান জানিয়েছেন এবং একই সঙ্গে, উত্তর-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। দুই নেতাই উত্তর কোরিয়ার বারবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং পারমাণবিক অস্ত্রের উন্নয়ন প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা করেন।

শীর্ষ সম্মেলনের শেষে, প্রধানমন্ত্রী  মোদি  জাপানের প্রধানমন্ত্রী  ইশিবা -কে কোয়াড লিডার্স সামিট-এ যোগ দেওয়ার জন্য ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানান। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়ার সাথে কোয়াড কাঠামোর মধ্যে ভারত ও জাপানের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করে।

সব মিলিয়ে, ১৫তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন শুধু দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত বিশ্বাসকেই আরও মজবুত করেনি, বরং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং উন্নয়ন ও শান্তির বার্তা প্রচারে ভারত-জাপানের যৌথ অঙ্গীকারকেও তুলে ধরেছে।

এই মুহূর্তে

DRDO-র প্রতিরক্ষা উদ্ভাবনে ভারতের সামরিক বাহিনীতে আসছে যুগান্তকারী পরিবর্তন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: ভারতে অনলাইন ও টিভিতে লাইভ দেখবেন কোথায়? রইল সম্পূর্ণ গাইড

অডিওর পর এবার গ্রুমিং দুনিয়ায় Boat, এলো নতুন Slazer সিরিজ

এবার মানুষের চেয়েও বেশি ওয়েব ট্র্যাফিক তৈরি করছে AI এজেন্টরা!