‘ভারত-চিন সম্পর্ক এশিয়ার উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে’ – জাপান থেকে বার্তা মোদির

India china relation

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সফরে রয়েছেন, যা শুধু ভারতের নয়, সমগ্র এশিয়া তথা বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জাপান থেকে তিনি যে বার্তা দিয়েছেন, তা এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। জাপানের দৈনিক দ্য ইয়োমিউরি শিম্বুন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, ভারত ও চিনের মধ্যে স্থিতিশীল এবং গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখা আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। এই সম্পর্ক শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে।

কঠিন সময়ে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

প্রধানমন্ত্রী তাঁর আসন্ন চিন সফর নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনে যোগ দিতে তিয়ানজিন যাবেন। এই সফরের আমন্ত্রণ এসেছে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর পক্ষ থেকে। মোদি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই সফর কাজানে চিনা নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর শেষ বৈঠকের পর থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির একটি প্রমাণ। তিনি মনে করেন, ভারত এবং চিন, বিশ্বের দুটি বৃহত্তম জনবহুল দেশ এবং প্রধান অর্থনীতি হিসেবে, কেবল ভৌগোলিকভাবেই একে অপরের প্রতিবেশী নয়, বরং বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের একটি বড় দায়িত্বও রয়েছে। এই দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তির বার্তা

মোদি-র কথায়, ভারত-চিন সম্পর্কের এই স্থিতিশীলতার প্রভাব কেবল দ্বিপাক্ষিক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি সরাসরি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি ও শৃঙ্খলাকে প্রভাবিত করে। তিনি বলেন, ভারত ও চিনের মতো দুটি বড় শক্তির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, একে অপরের স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি থাকা জরুরি। বিশেষ করে অর্থনৈতিক অস্থিরতা, উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ এবং পারস্পরিক প্রভাবের ক্ষেত্রগুলোতে শান্তি বজায় রাখার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য এই দুই দেশের সহযোগিতা অপরিহার্য – এই মন্তব্য করে মোদি এক প্রকার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কৌশলগত যোগাযোগ বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্য ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে ভারত প্রস্তুত। যেখানে ভারত ও চিনের মতো দায়িত্বশীল শক্তিগুলো বিশ্বনেতৃত্বের বোঝা ভাগ করে নেবে।

জাপানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুরু হয়েছে ২৯শে আগস্ট জাপানে। সেখানে তিনি ১৫তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। এই সফরে মোদি ভারত ও জাপানের মধ্যে কৌশলগত পার্টনারশিপকে আরও জোরদার করার ওপর জোর দিয়েছেন। বিশেষত, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে। জাপানের বৈঠকের পরপরই তিনি তিয়ানজিনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।

SCO সম্মেলনে ভারতের সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত তার সময়কালে উদ্ভাবন, স্বাস্থ্যসেবা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো ক্ষেত্রগুলোতে বেশ কিছু উদ্যোগ চালু করেছে। এই সম্মেলনে তিনি চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। এটি ভারতের সতর্কতামূলক কূটনীতির প্রতিফলন, যেখানে ভারত প্রধান শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে বহুমেরু বিশ্বকে শক্তিশালী করতে এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে মজবুত করতে চাইছে।

সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী মোদি-র এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ভারত নিজেকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে একটি নির্ভরযোগ্য এবং গঠনমূলক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চায়। একইসঙ্গে, চিনের মতো একটি জটিল কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ভারত একটি সুচিন্তিত এবং বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী।

এই মুহূর্তে

ইয়ান লেকান অ্যানথ্রোপিকের ৫০% চাকরি হারানোর পূর্বাভাস খারিজ করলেন মেটার প্রধান এআই বিজ্ঞানী

AI Chatbot আত্মহত্যা: চ্যাটবটের পরামর্শে ব্যক্তির মৃত্যু, উঠছে গুরুতর প্রশ্ন

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬: বাঁশের বেড়া থেকে এআই প্রযুক্তি, অভূতপূর্ব সুরক্ষা

Project বিষ্ণুর ET-LDHCM হাইপারসনিক মিসাইল: ভারত Mach 8 গতির পথে