HAL- GE জোটে ভারতের সাফল্য, দেশেই তৈরি হবে F414 জেট ইঞ্জিন, শক্তি পাবে TEJAS MK-2

Tejas Mk-2 fighter jet
Estimated time: 1 min
Powered by suryanetram

ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে বড়সড় এক মাইলফলক ছুঁতে চলেছে Hindustan Aeronautics Limited (HAL)। সংস্থাটি আগামী ৩ মাসের মধ্যেই আমেরিকার General Electric (GE) Aerospace-এর সঙ্গে F414 Jet Engine-এর লোকাল প্রোডাকশন নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা শেষ করতে চলেছে। এই উন্নয়ন ভারতের বিমান ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতার পথে এক বিশাল অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে।

চুক্তির মূল কেন্দ্রবিন্দু

চুক্তিটি মূলত F414-INS6 Engine উৎপাদনকে ঘিরে, যা ভারতের তৈরি TEJAS MK-2 Fighter Aircraft-কে শক্তি জোগাবে। এই মাঝারি ওজনের নেক্সট-জেনারেশন যুদ্ধবিমান বেশি পে-লোড বহন করতে সক্ষম এবং তার পারফরম্যান্সও আরও উন্নত।

প্রায় দুই বছর ধরে চলা আলোচনা এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও আইনি ছাড়পত্র মিলেছে—২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র মার্কিন সফরের সময় এই চুক্তির ঘোষণা করা হয়েছিল এবং পরে US Congress থেকেও অনুমোদন মেলে।

টেকনোলজি ট্রান্সফারের বড় পদক্ষেপ

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই চুক্তিতে প্রায় ৮০% গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও উৎপাদন জ্ঞান GE থেকে HAL-এ হস্তান্তরিত হবে। ২০১২ সালের আলোচনায় যেখানে মাত্র ৫৮% প্রযুক্তি হস্তান্তরের কথা ছিল, এবার সেই সীমা অনেকটাই বাড়ানো হচ্ছে।

এর মধ্যে থাকছে—

  • Single-Crystal Turbine Blade তৈরির কৌশল
  • Nozzle Guide Vane উৎপাদন
  • বিশেষ Thermal Corrosion-resistant Coating
  • Blisk Machining

যা দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ও ইঞ্জিনের পারফরম্যান্সে অত্যন্ত জরুরি।

উৎপাদন কেন্দ্র ও খরচ

বেঙ্গালুরুর কাছেই নতুন প্রোডাকশন সেন্টার তৈরি করবে HAL, যেখানে এই ইঞ্জিন বানানো হবে। পুরো চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় $1 Billion (2023 সালের ভিত্তিতে) বলে জানা গেছে। চুক্তি স্বাক্ষরের দুই বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু হবে এবং তিন বছরের মধ্যে ইঞ্জিন সরবরাহ শুরু হবে, যা TEJAS MK-2-র প্রোটোটাইপ টেস্ট ও প্রোডাকশন টাইমলাইনের সঙ্গে মিলে যাবে।

যদিও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্ট যেমন Compressor, Combustion Chamber Turbine এই চুক্তির বাইরে থাকছে, তবুও স্থানীয় উৎপাদন ও টেকনোলজি শেয়ার ভারতের এয়ারোস্পেস সেক্টরে বিশাল পরিবর্তন আনবে।

ভারতের কৌশলগত অগ্রগতি

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, এই প্রকল্প দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড়সড় অগ্রগতি এবং আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এছাড়াও, ভবিষ্যতে দেশীয়ভাবে নতুন জেট ইঞ্জিন তৈরির পথও প্রশস্ত করবে এই উদ্যোগ।

এই সহযোগিতা শুধু TEJAS MK-2 প্রোগ্রামকেই সময়মতো এগিয়ে নিয়ে যাবে না, বরং ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও মজবুত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্র তৈরি করবে।

TEJAS Fighter Jet-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য

  • Smallest & Lightest Aircraft → সবচেয়ে ছোট ও হালকা, কম্পোজিট স্ট্রাকচারের ব্যবহার একে আরও হালকা করেছে।
  • Excellent Flight Safety Record → কোনও দুর্ঘটনা ছাড়াই উড়বে।
  • Compound Tail-Less Delta Design → একাধিক বোমা, মিসাইল বহনের ক্ষমতা।
  • In-Flight Refuelling (IFR) Probe → দিনে-রাতে মিশনের সময় আকাশে জ্বালানি ভরার সুবিধা।
  • Open Architecture Mission Computer → দেশীয়ভাবে তৈরি, যার ফলে ইন্টারঅপারেবিলিটি ও স্কেলেবিলিটি নিশ্চিত।
  • Quadruplex-Redundant Fly-By-Wire → পাইলটের জন্য সহজ কন্ট্রোল সিস্টেম।
  • AESA Radar → উন্নত রাডার, শত্রুর হাতে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম।
  • Weapons Payload → ৯টি হার্ড পয়েন্টে বিভিন্ন ধরণের BVR & WVR Missiles, Bombs প্রিসিশন সহকারে ব্যবহার করা যায়।

সব মিলিয়ে, আগামী ৩ মাসের মধ্যে HAL GE-র মধ্যে এই চুক্তি চূড়ান্ত হলে ভারত শুধু আত্মনির্ভরতার পথে আরও এক ধাপ এগোবে না, বরং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থানও প্রমাণ করবে।

এই মুহূর্তে

Apple CarKey Tata EV: এবার iPhone বা Apple Watch-এর সাহায্যে টাটা গাড়ি আনলক ও স্টার্ট করুন!

প্রযুক্তি বিশ্বে আলোড়ন: Tim Cook steps down John Ternus successor – অ্যাপলের নেতৃত্বে কি আসছে নতুন মুখ?

বিনোদনে নতুন মাত্রা: LG StandbyME 2 Max portable TV এলো 32-ইঞ্চি 4K UHD ডিসপ্লে সহ!

দ্বিগুণ বিদ্যুৎ বিল? এই AC room mistakes গুলো এড়িয়ে চলুন!