মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল রাশিয়া। মানুষের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে এক সাহসী পদক্ষেপ নিল রুশ মহাকাশ সংস্থা Roscosmos। মহাকাশে জীবন্ত প্রাণী এবং জীবাণুদের উপর বিকিরণ ও মাইক্রোগ্র্যাভিটির প্রভাব নিয়ে গবেষণার জন্য সম্প্রতি মহাকাশে পাঠানো হয়েছে ‘Bion-M No.2’ নামের একটি অত্যাধুনিক বায়োস্যাটেলাইট। কাজাখস্তানের Baikonur Cosmodrome থেকে বুধবার, ভারতীয় সময় রাত ১০:৪৩ মিনিটে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় Soyuz 2.1b রকেট। এই রকেটে করেই মহাকাশে পাড়ি দেয় ‘Bion-M No.2’। এটি এখন পৃথিবীর একটি পোলার (মেরু) কক্ষপথে অবস্থান করছে।
ছোট্ট নোয়ার নৌকা:
‘Miniature Noah’s Ark’ নামে এই মিশনে আছে ৭৫টি ইঁদুর, প্রায় ১০০০টি ফলমাছি, সঙ্গে গাছের বীজ, শৈবাল, মাইক্রো-অর্গানিজম আর সেল কালচার। ইঁদুরদের রাখা হয়েছে বিশেষভাবে বানানো কন্টেনারে, যেখানে রয়েছে ক্যামেরা, সেন্সর, খাদ্য, ভেন্টিলেশন আর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম। কিছু ইঁদুরের শরীরে বসানো হয়েছে বিশেষ চিপ, যাতে প্রতিটি আলাদা আলাদা করে পর্যবেক্ষণ করা যায়।
মহাকাশে থাকা এই ইঁদুরদের তথ্য মাটিতে থাকা ইঁদুরদের সঙ্গে তুলনা করা হবে। এতে বোঝা যাবে, Microgravity-তে তাদের দেহ কেমন বদলায়। পাশাপাশি জানা যাবে, কঠিন পরিস্থিতিতে তারা কতটা সহনশীল হতে পারে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে ইঁদুররা যে রেডিয়েশন পাচ্ছে, তা ISS (International Space Station)-এ থাকা মহাকাশচারীদের তুলনায় প্রায় ৩০% বেশি।
ভবিষ্যতের মহাকাশযাত্রার প্রস্তুতি
এই পুরো মিশনের উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ ভ্রমণের জন্য ভিত্তি তৈরি করা। বিশেষ করে চাঁদ আর মঙ্গলের মতো দূরের অভিযানে মহাকাশচারীদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এগুলো ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
চাঁদ-মঙ্গল অভিযানের দিকে নজর
মিশনের দশটি পরীক্ষার মধ্যে অন্যতম হলো চাঁদের মাটি ও পাথরের মতো বিশেষ Lunar Simulants নিয়ে গবেষণা। IMBP (Institute of Medical and Biological Problems) আর Vernadsky Institute of Geochemistry and Analytical Chemistry মিলে এই নমুনাগুলি তৈরি করেছে। এগুলো রাখা হয়েছে ১৬টি টেস্ট টিউব-এ। উদ্দেশ্য হলো, মহাকাশের শূন্যতা আর রেডিয়েশনের মধ্যে এই উপকরণ কতটা টিকে থাকতে পারে, তা বিশ্লেষণ করা। ভবিষ্যতে চাঁদ বা মঙ্গলে ঘর-বাড়ি বানানোর প্রযুক্তি উন্নত করতে এই গবেষণা হবে অমূল্য সম্পদ।
অতীত থেকে শিক্ষা
Bion-M No.2 আসলে ২০১৩ সালে লঞ্চ হওয়া Bion-M1 মিশনের উত্তরসূরি। তখনও রাশিয়া মহাকাশে পাঠিয়েছিল ইঁদুর ছাড়াও মঙ্গোলিয়ান জারবিল, মাছ, শামুক, গেকো প্রজাতিকে। তাদের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে জানা গিয়েছিল মস্তিষ্কের ধমনী, মেরুদণ্ড, কানের ভেতরের গঠন এবং জেনেটিক পরিবর্তন নিয়ে মূল্যবান তথ্য।